প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুলনায় ইজি বাইকের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে রিকশা

ইসমাঈল হুসাইন ইমু, খুলনা থেকে ফিরে : শিল্পনগরী খুলনার প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে রিকশা। কোনো নিয়ম নীতি না থাকায় যে কেউই ইজি বাইক নামিয়ে রাস্তা দখল করে ফেলছে। এতে অনেকটা সুবিধাই হয়েছে আরোহীদের। কম ভাড়ায় চলাচল করতে পারায় কোন অভিযোগ নেই তাদের। তবে অপচয়ের বিষয় নিয়ে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা। ঢাকা থেকে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে স্বপরিবারে বাস থেকে নামেন আজিজুর রহমান রিপন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি রিকশা খুঁজছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ইশারা করছেন তিন ইজি বাইকের চালক। গন্তব্য জানতে চেয়ে তিনজনই তাদের নিতে রাজী। পরে লবনচরা পাকার মাথায় নেমে ভাড়া দিলেন মাত্র বিশ টাকা। অথচ এ গন্তব্যে রিকশা ভাড়া কমপক্ষে ৪০ টাকা। এছাড়া সোনাডাঙ্গা থেকে রূপসার রিকশসা ভাড়া ৩০ টাকা, কিন্তু ইজি বাইকে ভাড়া মাত্র ১০ টাকা। এছাড়াও মাঝে কোথাও নামলে ভাড়া ৫টাকা। বর্তমানে খানজাহান আলী সেতু একটি বিনোদন কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব দর্শনাথী আসে প্রায় সকলেই ইজি বাইকে করে আসেন। স্বপরিবারে রিজার্ভ নিলে তেমন একটা বেশি লাগেনা।

ইজি বাইক চালক ফরিদ হোসেন বলেন, ভাড়া নিয়ে কোন ঝামেলা হয়না। অনেক সময় যাত্রীর কাছে ভাংতি টাকা না থাকলেও নামিয়ে দেন গন্তব্যে। শহরের মধ্যে আবারও কখনো দেখা হলে হয়তো দিয়ে দেবেন এই আশায়। রিজার্ভ ভাড়া নিয়েও বাড়াবাড়ি করেনা কেউ। সাধারণত গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটু বেশি দিলেই চলে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইজি বাইকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যাত্রীর চাহিদার চেয়ে চালকের চাহিদা মেটানোর জন্যই ভাড়া কম। এলাকার অনেকগুলো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বল্প আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় বেকার যুবকদের একটা অংশ ইজি বাইক চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

জজি নামের আরেক ইজি বাইক চালক বলেন, আগে তিনি নিউমার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে সেলস ম্যানের কাজ করতেন। বর্তমানে ইজি বাইক চালিয়ে ভালই চলছে তার। তার দেখাদেখি অনেকেই এ পেশায় যোগ দিয়েছেন।
এদিকে ইজি বাইক চালকেদের কোন প্রশিক্ষণ ও চালক লাইসেন্স না থাকায় যে কেউই বাইক নিয়ে রাস্তা নেমে পড়ছেন। প্রশিক্ষণ ছাড়া রাস্তায় নামায় ঘটছে দূর্ঘটনাও। যাত্রীদের সুবিধার আড়ালে চরম এ অসুবিধাও চলছে দীর্ঘদিন। সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ উদাসীন হওয়ায় এ অবস্থা চলছে বলে জানা গেছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা শহরে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ইজি বাইক চলছে। এগুলোর কোন নিবন্ধন নেই। তবে নুতন মেয়র তালকদার আব্দুল খালেক শপথ নেয়ার পর ইজি বাইক নিয়নন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। ইজি বাইকের একটি নীতিমালা করে তাদের রাস্তায় চলাচলে সুবিধা দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত