প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুঠোফোনে চলছে মাদক ব্যবসা
খুলনার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডেই ৭ ডিলার

ইসমাঈল হুসাইন ইমু, খুলনা থেকে ফিরে : দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর বন্দুকযুদ্ধে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় অধরারা পালিয়েছে। তবে ঘাপটটি মেরে থাকা কারবারিরা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। খুলনার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকাশ্যে বিক্রি না হলেও মুঠোফোনে চলছে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা। কতিপয় পুলিশকে ম্যানেজ করে এই ওয়ার্ডে ৭ ডিলার এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের জিন্নাহপাড়া বউ বাজার সংলঘœ এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে বাবু ওরফে ন্যাংকা বাবু। নার্সারী ব্যবসার আড়ালে চলে তার কার্যক্রম। এছাড়া ক্রেকারিজ ব্যবসার আড়ালে গাঁজার ডিলার হিসেবে পরিচিত সাইজে। একটা বাক প্রতিবন্ধিকে দিয়ে আনা নেয়ার কাজ সারেন। বিক্রি করেন তিনি নিজেই। থানার কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে চলছে তার মাদক বাণিজ্য। জিন্নাহপাড়া টাওয়ার ও পশ্চিম মোল্লাপাড়া এলাকায় রানা, মারুফ ইয়াবা বাণিজ্যে জড়িত। তাদের গডফাদার হিসেবে পরিচতি মনির ওরফে চুকি মনির। একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। খুলনা শিপইয়ার্ডে চাকরি করেন। ভদ্রবেশি এই মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেননা। এছাড়া হঠাৎ কাজার এলাকায় একাধিক মাদক মামলার আসামী দুলাল ব্যবসা করে। পূর্ব মোল্লাপাড়া মসজিদ সংলঘœ এলাকায় সুজন ও বাবু গাঁজা ব্যবসা করে। তাদের ডিলার নুর আজিম। মুলত নুর আজিমই ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করে থাকেন।

অপরদিকে জিন্নাহপাড়া কলাবাগান এলাকায় নজু, শিপইয়ার্ড গেট এলাকায় রনো, লবনচরা আমতলা এলাকায় আরমগীর ওরফে পুট আলমগীর, মোল্লাপাড়া আজুর কালভার্ট এলাকায় সোলেমান ওরফে নাটা সোলেমান, চানমারি এলাকায় সুমন ওরফে পাটৃু সুমন, খ্রিস্টানপাড়ায় জাহাঙ্গীর ওরফে পিচ্চি জাহাঙ্গীর, আলামিন, মোল্লাপাড়া ভন্ডর বটতলায় বাদল ওরফে ড্রাইভার বাদল, জিন্নাহপাড়া মসজিদ গলিতে বাবু ওরফে ছোট বাবু ইয়াবা ও গাঁজকার ব্যবসা করেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই বাবু এর আগে ১৭ পিস ইয়াবা ও গাঁজা গাছসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই মামলায় তার দুবছরের সাজা হয়েছিল। বর্তমানে জামিনে বেরিয়ে আবারও শুরু করেছেন পুরনো ব্যবসা।

অন্যদিকে জিন্নাহপাড়া কলাবাগান এলাকার চুমকি সড়কের তালুকদার ভিলায় দিন-রাত চলে মাদক ও জুয়ার আসর। এ আসর পরিচালনা করে চান ওরফে লন্ড্রি চান আর কামরুল ওরফে নাটা কামরুল। তবে ওই বাড়িতে দেহব্যবসা পরিচালনা করেন জাহেদা নামের এক মাদক স¤্রাজ্ঞী। তাদের এ ব্যবসার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবক মাদকে আসক্তের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কদিন বন্ধ থাকার পর আবার চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ক’দিন আগে কাউন্সলর নির্বাচন হয়েছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন মুক্তার ছেলে আরিফ হোসেন মিঠু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শিগগিরই নতুন কাউন্সিলররা শপথ গ্রহণ করবেন। এলাকার কোন মরুব্বি না থাকায় মাদক বিক্রেতারা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। কাউন্সিল শপথ নিলেই মাদক বিক্রেতারা আইনের আওতায় আসবে।

কাউন্সিলর আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, তার কাছেও খবর রয়েছে এলাকায় মাদক বিক্রির। তবে শপথ গ্রহণের আগে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেননা। তবে এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে একটি মাদক বিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত