প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাকডেটে অস্ত্র জমা দিলেন হত্যা মামলার ২ আসামি

ডেস্ক রিপোর্ট : বাড্ডার বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি তাদের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পেছনের তারিখ উল্লেখ করে অস্ত্রের দোকানে জমা দিয়েছেন। এরা হলেন ফারুক আহমেদ ও আইয়ুব আনছার মিন্টু। দোকানের কর্মচারীরা পেছনের তারিখ দিয়ে সেগুলো জমা নিতে রাজি না হলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ওই দুই আসামি জোরপূর্বক পেছনের তারিখে অস্ত্র জমা দেওয়ার রশিদ নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকানের সত্ত্বাধিকারী নুরউদ্দিন ইমরান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল বাড্ডা থানার বেরাইদে বালু নদের তীরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপির ভাগ্নে ফারুক আহমেদ গ্রুপের গুলিতে বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু নিহত হন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য রহমতউল্লাহ’র দুই ভাগ্নে ফারুক আহমেদ ওরফে ভাগ্নে ফারুক ও আইয়ুব আনছার মিন্টুসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ৭ মে ঢাকার একটি আদালতে ফারুক, মিন্টুসহ ২৪ জন হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত ফারুক আহমেদ, আইয়ুব আনছার মিন্টু ও তাদের চাচাতো ভাই বেরাইদ ইউপি সদস্য মারুফ আহমেদকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি ২১ জনকে আদালত জামিন দেন। গত ১৪ জুন ফারুক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। মিন্টু ও মারুফ এখনও কারাবন্দী।

গত ৩০ এপ্রিল পল্টন মোড়ে প্রীতম ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান ‘আর্মস মিউজিয়ামে’ যান ফারুক আহমেদ ও আইয়ুব আনছার মিন্টু। তারা দোকানে ১টি রাইফেল, ১টি শটগান, ২টি পিস্তল , ১১২টি শটগানের গুলি ও ৮১টি পিস্তলের গুলি জমা দেন। তখন জমা দেওয়া সংক্রান্ত রশিদে পেছনের তারিখ দিতে বলেন। দোকানের কর্মচারীরা এ প্রস্তাবে রাজি না হলে তারা কর্মচারীদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। প্রাণভয়ে কর্মচারীরা তাদের দাবিকৃত পেছনের তারিখ উল্লেখ করে অস্ত্র জমা দেওয়ার রশিদ দেন। ফারুক তার নামে জমা দেওয়া শটগান ও পিস্তলের দুটি রশিদে ৫ মার্চ লিখিয়ে নেন। মিন্টু তার নামে জমা দেওয়া অস্ত্র-গুলির দুটি রশিদে ৮ মার্চ লিখিয়ে নেন। এ ঘটনার পর অস্ত্রের দোকানের সত্ত্বাধিকারী নুরউদ্দিন ইমরান ৫ মে শাহবাগ থানায় একটি জিডি (নম্বর-৫০৬) করেন।

জিডিতে নুরউদ্দিন অভিযোগ করেন, ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় ফারুক ও মিন্টু তাদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ও গুলি তার প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে যান। এ সময় তারা দোকান কর্মচারীদের কাছে পেছনের তারিখে জমা দেওয়ার কথা রশিদে উল্লেখ করতে বলেন।

জিডিতে আরো বলা হয়, তারা কোন অসত্ উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গতকাল এ বিষয়ে ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর্মস মিউজিয়ামে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অস্ত্র তো জমা দিয়েছি। কিন্তু এ ঘটনায় অস্ত্রের দোকান মালিক যে থানায় জিডি করেছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি পুলিশও আমাকে জানায়নি।’

এ ব্যাপারে শাহবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিডির অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ২২ এপ্রিল ভাগ্নে ফারুকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শটগান ও পিস্তলে সজ্জিত হয়ে বেরাইদে তার বাড়ির সামনের মোড়ে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের ওপর এক তরফা গুলি চালায়। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এতে তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু মারা যান। সন্ত্রাসীরা হামলায় লাইসেন্সকৃত শটগান ও পিস্তল ব্যবহার করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত