প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির প্রচারণায় মাঠে জামায়াত!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) নির্বাচন। নির্বাচনী এলাকাজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীরা দিন রাত এক করে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। ভোটের জন্য যাচ্ছেন ভোটারদের দরজায় দরজায়, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

গাসিক নির্বাচনের প্রথম ধাপের প্রচারণায় ২০ দলের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে পাশে পায়নি বিএনপি প্রার্থী। জামায়াতকে পাশে না পাওয়ার কারণ ছিলো- নির্বাচনে জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায়। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা বিব্রত অবস্থায় পড়ে বিএনপিসহ জোটের শরিকরা। খবর বার্তা ২৪’র।

তবে ২০ দলের শরিকরা ভালো করে এই কথাটি জানতেন যে, গাসিকে জামায়াতের শক্ত একটি অবস্থান রয়েছে। যা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের দিকে তাকালে বোঝা যায়। এমনকি ভোটার সংখ্যা বেড়েছে সম্প্রতি দলের এমন দাবিও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

জোটের এই সঙ্কট নিরসনে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে গাসিক নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে সমাধান করে ২০ দলীয় জোট। পরে জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও প্রচারণায় নামেনি।

জামায়াত আদৌ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবেন কিনা তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিলো। জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে চলছিলো আলোচনা-সমালোচনা। অবশেষে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জামায়াতকে ৯টি সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে। এসব ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী থাকবে না। এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে নামে জামায়াত। তবে অন্য শরিকরা কোনো কিছু না পেয়েও জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছে।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী গাসিক নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে প্রচারণায় নেমেছে। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০ দলের শরিকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি।

এদিকে নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন ১৪ দলীয় মহাজোট সমর্থিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। প্রচারণার দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই সিটির কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার স্বল্প পরিসরে নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেও ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাঁধা দেওয়ায় অভিযোগ তুলেছেন।

২০ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাসিক নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে। সিদ্ধান্ত হয় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রার্থীদের আচরণ বিধি মেনে চলতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না, প্রার্থী কিংবা ভোটার কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না।

কিন্তু মতবিনিময় সভার ১২ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্তত ৮ জন সদস্যকে ঢাকা ডিবি পুলিশ আটক করার কথা বলছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।

২১ জুন সকালে মেয়রপ্রার্থীসহ জেলা বিএনপির নেতারা আটককৃতদের মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আগামীতে হয়রানি বন্ধে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত