প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: শেখ হাসিনাকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় রাখতে হবে

আসাদুজ্জামান সম্রাট : আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে একটি রাজনৈতিক দলকে অপরিহার্য করে তোলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন সরকার দলীয় এমপিরা। তারা বলেছেন, উন্নয়নের কথা স্বীকার করে আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে পুনর্বার নির্বাচিত করবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় যে নির্বাচনকালিন সরকার দায়িত্ব পালন করবে সেই সরকারের প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সেই নির্বাচনে কে আসলো বা কে আসলো না, এটা আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কোনো ব্যাপার নয়।

বক্তৃতায় আব্দুর রহমান বলেন, একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনে অপরিহার্য করে তোলার নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এদেশে অনেক নিবন্ধিত দল আছে। নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় যে নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করবে, সেই সরকারের প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কোনো ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না। নির্বাচন বানচাল করা যাবে না। যারা ষড়যন্ত্র করছেন তারা এ পথ ছেড়ে দিন বলে জানান এ নেতা।

এমপি মহিবুর রহমান মানিক বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাবার জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বারে বারে প্রয়োজন। তিনি বলেন, যদি রাশিয়ার মানুষ ভøাদিমির পুতিনকে ২৫ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রাখতে পারে, মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহম্মদ ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আবারো মাহাথির মোহম্মদকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে পারে তাহলে আমরা কেন জাতীর জনকের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আনবো না? দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তার অব্যাহত শাসন ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকোর শিক্ষা বান্ধব সরকার। তবে এবারে বাজেটে অর্থমন্ত্রী বিষয়টি উল্লেখ করেন নি। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার আরো উন্নয়নের স্বার্থে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। বক্তৃতায় আরো অনেক এমপি বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভ’ক্তির দাবি জানান।

দলীয় সংসদ সদস্য এবি তাজুল ইসলাম বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কোন দল আসল কি আসল না তা আওয়ামী লীগের দেখার বিষয় নয়। তিনি বলেন, সংবিধানে যে পদ্ধতির কথা বলা আছে আগামী নির্বাচন সেই পদ্ধতিতেই হবে। কোনো দল নির্বাচনে আসলো কি আসলো না সেটা আওয়ামী লীগের দেখার বিষয় না। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে আগামীতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা আরও এগিয়ে যাবে এবং আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিএনপি এবং সুশীল সমাজের কিছু মানুষ এই উন্নয়ন দেখতে পায় না। বিএনপির মুখ দিয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কোনো ভালো কথা শুনতে পায়নি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তারা কোনো উন্নয়ন দেখতে পায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো পেছনের দরজা, ষড়যন্ত্র কিংবা সেনা ছাউনীর সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ প্রতিবারই ক্ষমতায় এসেছে গণতান্ত্রিক উপায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমেও জনগণ ফের আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।

জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করা বিশাল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা ও নৈতিক শক্ত অবস্থানের প্রয়োজন রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হরিলুটের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার কোন তথ্য এই বাজেটে নেই। প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এদের কর্মসংস্থানেরও কোন দিক-নির্দেশনা নেই বাজেটে।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের গত ১০ বছর দেশের যে বিস্ময়কর উন্নয়ন-অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশে বিশ্বনেতারাও বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলছেন বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ আজ জঙ্গী-সন্ত্রাস, অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও মুক্ত। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসে বলেই তা সম্ভব হয়েছে। তাই দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে উন্মুখ। বিএনপি-জামায়াতসহ অপশক্তিরা শত ষড়যন্ত্র করেও শেখ হাসিনাকে আটকাতে পারবে না।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, দেশ সকল বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি বর্তমান সরকারের আমলে দেশে দরিদ্র জনগণের সেফটি নেট প্রকল্পের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।

নুরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লুট হয়ে গেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে গেল, পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারী ঘটলো, কিন্তু দোষী কাউকেই ধরা হলো না, শাস্তি হলো না। যে অন্যায় করে, আর যারা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় তারা উভয়েই দোষী। কিন্তু বাজেটে এ নিয়ে কোন কথা নেই।

প্রস্তাবিত বাজেরে উপর সাধারণ আলোচনায় আরো অংশ নেন, এমপি সেলিনা আখতার বানু, বেগম ফজিলাতুন নেসা, ওয়াসিকা আয়শা খান, সাবিনা আক্তার তুহিন, মো. মাহবুব আলী, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) মো. রুহুল আমীন, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, পীর ফজলুর রহমান, ইউনুস আলী সরকার, আব্দুল মালেক, গোলাম মোস্তফা, আশেক উল্লাহ রফিক, আবুল কালাম, ফরিদুর হক খান ও কামরুন নাহার চৌধুরীহ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত