প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী প্রকল্প

আদম মালেক : চার বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত হয়নি ‘শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী প্রকল্প’। আলোচনা পর্যালোচনা পরামর্শ আর চিঠি চালাচালিতেই পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, কবে নাগাদ প্রকল্প চূড়ান্ত হবেÑ তাও কেউ জানে না। এদিকে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন। বিলম্ব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১২আক্টোবর তাঁত শিল্প ও তাঁতীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ঢাকার বাইরে একটি তাঁত পল্লী স্থাপনের নির্দেশ দেয়। ১ হাজার ৫’শ ৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিপিপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির ডিপিপির ওপর সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৯’শ ১১ কোটি ব্যয়ে ২০১৭ সালের ২ফেব্রুয়রি পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করে। কমিশন প্রকল্পটি গ্রহণ করেনি বলে জানা যায়। এ অবস্থায় প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় হতে পরিকল্পনা কমিশন হতে অনুরোধ করা হয়। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পটি ২ পর্বে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ১ম পর্বে ২’শ ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিপি পূনর্গঠনপূর্বক গেল মাসের ২২ তারিখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। তবে ঐ ডিপিপি এখনও পরিকল্পনা কমিশনে পৌঁছেনি বলে জানা যায়।
প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে তাঁত বোর্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিভােেগর প্রধান কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন,এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রকল্প অনুমোদন পেতে বেশী সময় লাগবে না।

তাঁত বোর্ডসূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত এই পল্লীতে তাঁতিদের জন্য ৪২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ২০১৬ জন তাঁতির প্রত্যেককে একটি করে ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তাঁতিদের জন্য তাঁত শেড, কারিগরদের বাসোপযোগী ডরমিটরি, রেস্টহাউজ, সাইবার ক্যাফে তৈরি হবে। থাকবে স্টেট অফিস ও আনসার ক্যম্প। উৎপাদন উপকরণ ও কাঁচামালের মার্কেট এবং ডিসপ্লে সেন্টারও পরিকল্পনাধীন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তাঁতিরা তাঁত বস্ত্রের জন্য বয়নপূর্ব এবং বয়ন পরবর্তী সুবিধাদি গ্রহণ করতে পারবেন। সপ্তাহে দুই-একদিন তাঁত পণ্যের হাট বসবে। সেখানে সুতাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবিত তাঁতপল্লীতে তাঁতের বুনন হতে শুরু করে বিপণনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত