প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

প্রস্তাবিত চলতি বাজেটে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত : ফজলে হোসেন বাদশা

রফিক আহমেদ : আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এর আহবায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত। বাজেট বক্তৃতা ২০১৮-১৯ দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত হলেও দরিদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে দিয়ে এবারও অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করেছেন। সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোনাভাবেই সামিল হতে পারছে না। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাজেট প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা জানান।

ফজলে হোসেন বাদশা এম.পি বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে নিয়মিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম হলো আমাদের অন্যতম হাতিয়ার। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে হতদরিদ্র, অতিদরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সমাজের সর্বাধিক ঝুঁকিগ্রস্ত অংশের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিবছর মূল কর্মসূচিগুলোর আওতা ও পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা দুর্যোগ প্রবণ এলাকা, অতিদরিদ্র এলাকা এবং জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনা করছি।’ সেই প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই এই প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান পাবেন আদিবাসী জনগোষ্ঠী। সেই অনুপাত বিচারেই এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী যে নামেই ডাকিনা কেন তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ নেই এ বাজেটে তার মানে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সেখানে হিজরা, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে। চা-শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৩০-৪০ হাজারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন। এইখানেও আদিবাসীদের উপেক্ষিত করেছেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেছেন অন্যান্য বছরের মতো এবারও কয়েকটি বিশেষ উদ্দেশ্য কিছু থোক বরাদ্দ হয়েছে সেখানেও বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও অনগ্রসর অংশের মধ্যে অন্যতম আদিবাসী জনগণের স্থান হয়নি। সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উভয় অঞ্চলের আদিবাসীদের সিংহভাগ এখনও জীবিকা নির্বাহের জন্য ভূমি ও বনের ওপর নির্ভরশীল।

বাদশা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের পিছনে আদিবাসীদের যে অবদান রয়েছে সে বিষয়টিও আলোচনার জন্য প্রাসঙ্গিক। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আদিবাসীদের রয়েছে অপরিসীম ভূমিকা। উনিশশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে বিশাল অবদান রয়েছে তা আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাঁওতাল- গারো-হাজং-কোচ মুক্তিযোদ্ধাগণ সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন প্রমোদ মানকীন সাবেক মন্ত্রী, উত্তরবঙ্গের সাগারাম মাঝিএমএলএ। তারপরেও আদিবাসীদের এই অবদানের স্বীকৃতির বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েই যায়।

বাদশা সমতলের আদিবাসীদের জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরে বলেন, এক. জাতীয় বাজেটে পৃথক অনুচ্ছেদ যুক্ত করে আদিবাসী জনগণের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা। দুই. বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ে বিবরণী রাখা জরুরি। তিন. আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমীগুলোতে আদিবাসী সংস্কৃতি উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বাজেট বাড়াতে হবে। চার. উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তি সহ আদিবাসীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ। পাঁচ. সমতলের আদাবাসিদের বিষয়টি দেখার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আপাতত একটি পৃথক বিভাগ যুক্ত করে সংখ্যানুপাতিক আদিবাসী জনগণের জন্য উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি ন্যায় সঙ্গত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত