প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমালোচনায় পোপ ফ্রান্সিস

ডেস্ক রিপোর্ট: মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ এ ধর্মগুরু বলেছেন, পপুলিজম বা লোকরঞ্জনবাদ অভিবাসী সমস্যার সমাধান নয়। রবিবার রাতে ভ্যাটিক্যানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বুধবার সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়।

এর আগে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যাজকরা এক বিবৃতিতে বাবা-মায়েদের কাছ থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা ‘ক্যাথলিক মূল্যবোধের বিপরীত’ এবং ‘অনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোপ বলেন, তিনি মার্কিন যাজকদের এ বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেন।

পোপ ফ্রান্সিস বলেন, আমি মার্কিন যাজকদের সঙ্গে আছি। তাদের অবস্থানেক আমি সম্মান করি। দরজায় এসে দাঁড়ানো মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।

ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও সমালোচনা করেন পোপ। তবে ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধেই তাকে বেশি সোচ্চার দেখা যায়।

গত ছয় সপ্তাহে মেক্সিকোর অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র বলি হয়েছে প্রায় ২ হাজার শিশু (১৯৯৫ জন)। অতীতে মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় প্রবেশকারীদের অপরাধের রেকর্ড না থাকলে তাদের কেবল অস্থায়ীভাবে আটক রাখা হতো। এ কারণে শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেই থাকতে পারত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া জিরো টলারেন্স নীতিতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সব মানুষকেই আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। শিশুরা আইনের চোখে অপরাধী না হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের জায়গা হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে।
অবৈধ অভিবাসীদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নকরণের ঘটনা পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোতেও দেখা গেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সে সংখ্যাটা অনেক কম ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে আইনগত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার প্রথম ৬ সপ্তাহেই প্রায় ২ হাজার শিশু পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতীতে এমন নজির দেখা যায়নি।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর-হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে সময়ের মধ্যে আটক হওয়া ১৯৪০ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা ১৯৯৫ জন শিশু পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে কার বয়স কতো, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি। ওই শিশুরা হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ