প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুদায়দাহ বন্দরে হামলা চালাচ্ছে না’

ডেস্ক রিপোর্ট : ইয়েমেনে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত হুদায়দাহ শহরের সমুদ্রবন্দরে সরকারি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে না বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আলইয়েমানি এমন দাবি করেন। তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দর পুরোপুরিভাবে অভিযানমুক্ত।

ইয়েমেনের প্রধান সমুদ্র বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হুথি বিদ্রোহীদের সময় বেঁধে দিয়েছিল আরব আমিরাত। বেঁধে দেওয়া সময় পার হওয়ার পর বুধবার ‘গোল্ডেন ভিক্টরি’ নামে অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। লোহিত সাগরে অবস্থিত বন্দরটি ইয়েমেনের যোগাযোগের প্রধান পথ। বন্দরটি দিয়ে মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকট চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,দেশটির প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষ-পূর্ব অবস্থায় আছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে হুদায়দাহ বন্দরে হামলা না চালানোর জন্য বিবাদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি করার চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বন্দরটি আক্রান্ত হলে লাখ লাখ ইয়েমেনির জন্য খাবার,জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে সেখানে মহামারী আকারে কলেরা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার হুথিদের ঘাঁটি লক্ষ্য বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুদায়দাহর বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হয়। তবে ইয়েমেন সরকারের দাবি, হুদায়দাহর সমুদ্রবন্দরে হামলার পরিকল্পনা নেই তাদের।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আলইয়েমানি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরের কাছের একটি এলাকায় আছি, সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি নই। সমুদ্রবন্দর পুরোপুরিভাবে অভিযানের আওতাভুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনা করছি না।

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়, সমুদ্র বন্দরে এখনও কার্যক্রম চলছে। সেখানকার কর্মীরা এখনও কাজ করছেন ও খাবার বিতরণ করছেন।

হোদায়দাহ বন্দর নগরীতে আনুমানিক ৬ লাখ মানুষ বাস করেন। সেখানে বড় ধরনের যুদ্ধ হলে আড়াই লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হতে পারে। একই সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের খাবারসহ অন্যান্য সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের পর এটাই সৌদি জোটের সঙ্গে হুথিদের সবচেয়ে বড় লড়াই। হুথিদের সব ধরনের সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্যই বন্দরটিতে হামলা চালিয়েছে জোট। জঙ্গিবিমান ও জাহাজের পাশাপাশি আরব আমিরাত সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী, লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় দলগুলোর পাশাপাশি হুথিদের হাতে নিহত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর ভাতিজার নেতৃত্বাধীন একটি ব্যাটেলিয়ন জোটের পক্ষে এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।

সূত্র : বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত