প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসে সালামি নিতাম’

এখনো পর্যন্ত কোনো সিনেমা মুক্তি না পেলেও ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত মুখ অধরা খান। নির্মাতা শাহিন সুমনের ‘পাগলের মত ভালোবাসি ‘ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে একই নির্মাতার ‘মাতাল’ নামে আরেকটি সিনেমার কাজ করেছেন। দুটি সিনেমাই এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

অধরা সম্প্রতি ক্যারিয়ারের তৃতীয় সিনেমা ‘নায়ক’র কাজ শেষ করেছেন। ‘নায়ক’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন যুগল নির্মাতা ইস্পাহানী আরিফ জাহান। সম্প্রতি একই নির্মাতার ‘ড্রিম গার্ল’ নামে আরও একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আসন্ন ঈদুল ফিতর, বর্তমান ব্যস্ততা ও নিজের ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে মুখোমুখি হলেন আমাদের সময় ডটকম’র। লিখেছেন মহিব আল হাসান।

শৈশবের ঈদ

প্রতিটি মানুষের ছোটবেলা আনন্দে কাটে। বিশেষ করে ঈদের সময় সকাল সকাল ওঠাটা ছিল একপ্রকার মজা। আমার কাজিনদের মধ্যে কে আগে উঠতো তা নিয়েই বেশ হৈ-হুল্লোড় চলতো। সকালবেলা উঠে গোসল করার বিষয়টা এখনো বেশ নাড়া দেয়। আমার স্পষ্ট মনে আছে ছোটবেলায় ঈদের সময়টা থাকতো শীতকাল। প্রচন্ড ঠান্ডা থাকলেও গোসল করা একপ্রকার নিয়ম ছিল সকাল বেলা। হিম ঠান্ডার মধ্যেই গোসল করতাম সবার আগেই।

বিশেষ স্মৃতি

বিশেষ স্মৃতি বলতে আমার ছোটবেলার সেইসব মুহূর্তগুলোকে আমি মনে করি। যেমন বাবার কাঁধে ওঠা, মায়ের হাতের সেমাই খাওয়া, শীতের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে গোসল করা, ঈদের নতুন জামা পরে সবাইকে দেখানো। এগুলোই এখনো আমার মনে বাজে।

ঈদ কেনাকাটা করতে গিয়ে এমন কোন মুহুর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল যেটা এখনো মাঝেমধ্যে নাড়া দেয় আপনাকে?

ঈদে কেনাকাটা করতে গিয়ে যেটুকু মনে পড়ে তার মধ্যে হচ্ছে পছন্দমতো পোশাক না হলে আমি পরতাম না। আর যেটা পছন্দ হতো সেটা ঈদের দিন ভোরবেলা পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতাম।

ঈদ কেনাকাটা করতে গিয়ে পরিবারের মধ্যে বাবা-মা ভাই-বোনদের কাছে আবদার ছিল কী?

বাবা-মা ভাই- বোনদের কাছে আবাদার ছিল না। তারাই আমার পছন্দমতো সবকিছু করে দিত।

সালামির গল্প

সালামি নিয়ে যেটা হতো এটা একপ্রকার যুদ্ধ জয় করার মতো ছিল। আমার সম্পর্কে নানু হয়। তার কাছ থেকে সালামি নেওয়ার জন্য খুব কষ্ট করতাম। দেখা যেত সকাল আটটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত বসে থেকে সালামি নিতাম। নানুর কাছ থেকে সালামি পাওয়া মানে যুদ্ধ জয় করা সমান।

এখন আর কেউ পা ছুঁইয়ে সালাম করেনা। বিষয়টি বিলুপ্তির পথে। আপনি কী পা ছুঁইয়ে মুরব্বীদের সালাম করতেন?

হ্যাঁ আমি মুরব্বীদের এখনো সালাম করি। এখন দেখা যায় না এর কারণ হচ্ছে সবার মধ্যে মডার্ণ ভাব। কারও মধ্যে আর ভ্রাতৃত্ববোধটা নাই।

নতুন পোশাক পরে আয়নার সামনে নিশ্চয় নিজেকে দেখতেন? তারপর কাকে দেখাতেন?

নতুন পোশাক পরে আমি প্রথমে আব্বুকে দেখাতাম এরপর আম্মুকে দেখাতাম। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়াতাম। দাঁড়ানোর কারণ হচ্ছে ড্রেসটা ঠিক হচ্ছে কি না, নিজেকে কেমন দেখাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতাম।

এখন তো আপনি সেলিব্রেটি, ব্যস্ততায় কী গ্রামে যাওয়া হয়?

এখন তো আমার কোনো সিনেমা মুক্তি পাইনি। সিনেমাগুলো মুক্তি পেলে দর্শকরা আমাকে চিনবে তখন এই বিশেষণটা আমার ক্ষেত্রে হবে।

কেনাকাটা করতে গিয়ে সাধারন মানুষ ও আপনার ভক্তদের কিভাবে সামলিয়ে নেন?

দর্শকরা আমাকে সেভাবে এখনো চিনে না। কারণ আমি মাত্র তিনটি সিনেমার কাজ শেষ করেছি। সেগুলো মুক্তির অপেক্ষায়। যখন দু-একটি সিনেমা মুক্তি পাবে তখন দেখা যাবে।

বিশেষ কোনো মানুষকে সময় দেন? সম্ভব হয় নাকি শুটিংয়েই সবকিছু ম্লান হয়ে যায়?

বিশেষ মানুষের সাথে ঈদ কাটানো হয়েছে। কিন্তু সে ঈদ সম্পর্কে অতটা ধারণা নেই তার। যদিও সে মুসলিম তবুও তার ধারণটা বেশি বড়দিন নিয়ে। আমি তার সাথে ঈদ করা মানে আমার ঈদটাই ম্লান হয়ে যাওয়া।

নগরের ঈদ উৎসব, গ্রামের আমেজ মত কিনা?

গ্রামের ঈদে মানুষের মধ্যে একপ্রকার আমেজ দেখা যায়। পরস্পর কি গভীর মিলে আচ্ছন্ন হোন তা গ্রামের মানুষদের ঈদ উদযাপন দেখলেই বুঝা যায়। আর শহরের ঈদ কোন দামি রেস্টুরেন্ট এ বসে কিছু সময় কাটানো।

কোথায় ঈদ করতে ভালো লাগে আপনার? খোলামাঠে সেই ছোট সবুজ গাঁয়ে নাকি ইট-কাঠ পাথরের শহরে?

আমার ভালোলাগার সবচেয়ে প্রিয় একটা জায়গা গ্রাম। গ্রামে বেশি সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে। ঈদের ব্যাপারটা হচ্ছে একবার শহরে ঈদ করলে আরেকবার গ্রামে ঈদ করি।

এবারের ঈদে কী কীনলেন?

নিজে তেমন কিছু কেনাকাটা করিনি। আমার জন্যই অনেকে কেনাকাটা করে দেয়। বিশেষ করে বাবা-মা। তাঁরাই তো আমার সবকিছু। তাঁরা আছে বলেই আমি আজ এখানে।

সাধারন মানুষের ঈদ এবং শোবিজের ঈদে পার্থক্য কোথায়?

সাধারণ মানুষের ঈদটা আর শোবিজের মানুষের থেকে ভিন্ন। সাধারণ মানুষকে আনন্দ দিতেই শোবিজের মানুষেরা ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত কাজ করে থাকে। এখানেই পার্থক্যটা বিরাজ করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত