প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফ্রিকার ওরোমো গোষ্ঠীর নারীরা সুরক্ষার জন্য পেয়ে থাকেন বিশেষ লাঠি

রাকিব খান : আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার ওরোমো জাতি গোষ্ঠীর নারীরা বংশ পরমপরায় একটি লাঠি পেয়ে থাকেন। দেখতে সাধারণ একটি লাঠি মনে হলেও এর তাৎপর্য অনেক। সিনকিউ নামের এই লাঠি ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীরা নিজেদের রক্ষার জন্য প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার করে আসছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ওরোমো জাতি গোষ্ঠীর নারীরা নিজের রক্ষাকবজ এই লাঠি হাতে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরছে আর নিজেদের ভাষায় গান গাইছে। তারা মুখ দিয়ে বিচিত্র এক শব্দ করছে। মাঝখানে একজন নারী বসে আছেন। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে বহু পুরোনো একটি ইতিহাস। ওরোমো নারীদের যখন বিয়ে হয় তখন তারা এই কাঠের লাঠিটি পেয়ে থাকে বাবা মায়ের কাছ থেকে। সিনকিউ নামের এই লাঠিকে ঐ নারী এবং তার পরিবারের রক্ষার প্রতীক হিসাবে ধরা হয়।

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ সারাডুবে বলছিলেন, এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে একজন বিবাহিত নারীকে অপমান বা কোনো ধরণের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ। বিষয়টা আসলে কেমন সেটা বোঝাতে পূর্ব পরিকল্পিত একটা পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে।

এখানে দেখানো হচ্ছে একটা পুরুষ লাঠি হাতে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকছে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা স্ত্রীকে তিনি মারবেন। ঠিক সেই মুহূর্তে নারীটি তার শিশুকে কোলে নিয়ে হাতে সেই সিনকিউ নিয়ে বেড় হয়ে আসছেন। আর মুখে উচ্চারণ করছেন এই শব্দ। এই শব্দ করার উদ্দেশ্য যাতে করে আশেপাশের অন্যান্য নারীরাও জানতে পারে যে তার উপর নির্যাতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাথে সাথে পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নারী রয়েছেন তারা তাদের সিনকিউ নিয়ে দৌড়ে চলে আসলেন। ঐ নারীটি মাঝখানে বসে পড়লেন। আর তাকে ঘিরে এই নারীরা ঘুরতে থাকলো। যেন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে সবরকম বিপদ থেকে। ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীদের জন্য প্রাচীন যে গারা ব্যবস্থা আছে তার একটি অংশ এই সিনকিউ।

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ সারাডুবে বলছিলেন, যখন এই গারা সিস্টেম চালু করা হয় তখন পুরুষদেরকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়া হতো যাতে করে তারা পশু শিকার করতে পারে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তিনি আরও বলছিলেন, নারীদের হাতে তখন দেয়া হয় সিনকিউ। যাতে করে তারা তাদের অধিকার নিশ্চত করার জন্য লড়াই করতে পারে।

এদিকে নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য। চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন, তাকে মারা মোটেও উচিৎ হয়নি। তার স্বামীর বিচার করা না পর্যন্ত তারা শান্ত হবে না। শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শুনালেন। রায় অনুযায়ী ঐ নারীর স্বামী সবার সামনে তার স্ত্রীর কাছে মাফ চাইলেন। একই সাথে সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করলেন আর কখনো তিনি তার স্ত্রীকে মারবেন না। রায়ে আরও বলা হলো যদি এর ব্যতীক্রম হয় তার জন্য ভবিষ্যতে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

বিয়ের সময় মেয়ের বাবা এই সিনকিউ তৈরি করেন। আর মেয়ের মা সেটা মেয়ের হাতে তুলে দেন।

গারবি তাফসি নামের এক নারী বলছেন, এটা আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি। এটা দিয়ে আমি নিশ্চিত করবো আমার নিরাপত্তা। অন্যদিকে আমি আমার মেয়ের হাতেও এটা তুলে দিবো। -বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ