প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বকাপ উৎসব: জয় হোক শৈল্পিক ফুটবলের

প্রভাষ আমিন:
১৪ জুন থেকে বিশ্বের সবার নজর থাকবে রাশিয়ার দিকে। শুরু হচ্ছে এই বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব-বিশ্বকাপ ফুটবল। ধর্ম, অঞ্চল, জাতিভেদে নানান রকম উৎসব আছে পৃথিবীতে। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো এমন সর্বজনীন উৎসব আর একটিও নেই। শুধু সবচেয়ে উৎসবমুখর, তাই নয়; সবচেয়ে দীর্ঘও। ১৪ জুন শুরু হয়ে এই উৎসব চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। ৩২টি দল, ৬৪ ম্যাচের এ উৎসবে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের দলের অংশগ্রহণ রয়েছে। তাই উৎসবের রঙ ছড়িয়ে যাবে গোটা বিশ্বের ঘরে ঘরে। তবে বাংলাদেশের চিত্রটা ভিন্ন। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই। নিকট ভবিষ্যতে থাকার কোনো সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাতামাতি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। বাংলার ঘরে ঘরে, দলে দলে এখন বিভক্তি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির অল্পকিছু সমর্থক আছে বাংলাদেশে। তবে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। গত ৩২ বছর ধরে শিরোপাার দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। কিন্তু ক্ষুদে জাদুকর ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে যা করেছেন, তাতেই এখনো বুঁদ হয়ে আছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এরপর আরও ৮টি বিশ্বকাপ হয়েছে। কিন্তু ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি কেউই। আগে বাংলাদেশে একতরফা ভালোবাসা ছিল ব্রাজিলের জন্য। কিন্তু ম্যারাডোনা এসে তাতে ভাগ বসান। তবে এখনো যারা শৈল্পিক ফুটবল ভালোবাসেন তারা ব্রাজিলের সঙ্গেই আছেন। ব্রাজিল সবচেয়ে বেশি পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে ব্রাজিল সমর্থকেরা শিরোপার সংখ্যা দিয়ে ব্রাজিলকে মাপে না, তারা ফুটবলে সৌন্দর্য খোঁজেন।

বাংলাদেশে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়ে যায়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি বিক্রি হয় দেদারসে। ঘরে ঘরে উড়ছে তাদের জাতীয় পতাকা। অনেকে পুরো বাড়ি সাজিয়ে ফেলেছেন প্রিয় দলের পতাকার রঙে। খেলা দেখার নানা আয়োজন চলছে ঘরে ঘরে। এবার অবশ্য উৎসবে একটু ঘাটতি হবে। আগের বেশির ভাগ বিশ্বকাপে খেলা হতো রাতে। রাত জেগে খেলা দেখার মজাই আলাদা ছিল। এবার তেমন রাত জাগতে হবে না। তাতেই সবার মন খারাপ। অল্প কয়েকটা ম্যাচ শুরু হবে রাত ১২টায়। অধিকাংশ ম্যাচই শেষ হয়ে যাবে মধ্য রাতের আগেই।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়াটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। কারণ এই দুই দলের ফুটবল একই ঘরানার। লাতিন আমেরিকান ফুটবলে সৌন্দর্যটাই আসল। ব্রাজিলের ফুটবলে যে সৌন্দর্য আছে, তার ছোঁয়া আছে আর্জেন্টাইন ফুটবলেও। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা লাতিন ঘরানার সৌন্দর্য বনাম ইউরোপিয়ান পাওয়ার ফুটবলের মধ্যে। বাংলাদেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত সৌন্দর্য পিয়াসী। তাই ল্যাতিন আর ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রতিযোগিতা হলে বাংলাদেশে ল্যাতিনরা জিতবে বিপুল ভোটে। শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশে ৯৯ ভাগ মানুষ হয় ব্রাজিল, নয় আর্জেন্টিনা, মানে ল্যাতিন ঘরানার সমর্থক। তবুও সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে, ঝগড়া না থাকলে, তর্ক না থাকলে খেলা দেখাটা ঠিক জমে না। তাই বাংলাদেশের ল্যাতিন ফুটবলের সমর্থকেরা নিজেদের মধ্যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিভক্তি বানিয়ে নিয়েছেন। তাতেই টানটান উত্তেজনা। তবুও সেই উত্তেজনাটা হোক আনন্দের। জয় হোক শৈল্পিক ফুটবলের।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত