প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ বছরে ব্যয় ৭০ কোটি টাকা, তবুও জলাবদ্ধতা

ডেস্ক রিপোর্ট: খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত পাঁচ বছরে বেশ কিছু কাজ করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এর মধ্যে ময়ূর ও হাতিয়া নদী খনন এবং ৮টি খাল পুনর্খনন করে সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ড্রেন। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিবছর নগরীর সড়কগুলোর পেড়ি মাটি উত্তোলন ও ড্রেন পরিস্কার বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা। সে হিসাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে গত পাঁচ বছরে ব্যয় হয়েছে মোট ৭০ কোটি টাকা। এত কিছুর পরও সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরীর বেশিরভাগ এলাকা।

গত পাঁচ বছরে এত টাকা ব্যয়ের পরও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। খুলনা সিটি করপোরেশনও নগরবাসীকে কোনো আশার বাণী শোনাতে পারছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, নিম্নচাপের কারণে গত রোববার রাত থেকে খুলনায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল সকাল থেকে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর সব রাস্তাঘাট।

গতকাল দুপুর ১২টায় বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর কেডিএ এভিনিউয়ের জিয়া হল থেকে ময়লাপোতা মোড় পর্যন্ত সড়কের পূর্বপাশ, খানজাহান আলী রোড, শামসুর রহমান সড়ক, স্যার ইকবাল রোড, বাইতিপাড়া, মির্জাপুর রোড, আহসান আহমেদ রোড, বাবু খান রোড ও ফারাজীপাড়ায় হাঁটু পর্যন্ত পানি। আরও বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় নগরীর নিম্নাঞ্চল চানমারী, লবণচরা, মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়েছে খুলনার মানুষ। এটি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনেক আন্দোলন হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মে মাস থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কেসিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের আওতায় খুলনার ময়ূর, হাতিয়া নদী খননসহ বিভিন্ন খাল পুনর্খনন ও অভ্যন্তরীণ ড্রেনগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।

সূত্রটি জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি ড্রেনের ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩টি ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ময়ূর ও হাতিয়া নদী খনন করা হয়েছে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দিয়ে।

এছাড়া মতিয়াখালী খাল, ক্ষেত্রখালী খালের একাংশ, লবণচরা গোড়া খাল, তমিজউদ্দিন খাল, গল্লামারী নর্থ খাল, বাটকেমারী খাল, তালতলা খাল, নিরালা প্রান্তিক খাল, নিরালা ইস্ট খাল, রায়েরমহল বাজার খাল ও রায়েরমহল মোল্লাপাড়া খাল সংস্কার করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। খাল খনন বলা হলেও মূলত ২২ ফুট চওড়া খালের জায়গায় নির্মাণ হয়েছে ৮ অথবা ১০ ফুটের কংক্রিটের ড্রেন।

নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছয়ফুদ্দীন জানান, ড্রেন ও খালের কাজ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। এসব কাজের সব টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্প গ্রহণের সময় শর্ত ছিল খাল ও ড্রেনগুলো কেসিসি নিয়মিত পরিস্কার করবে। কিন্তু আদৌ তা হয়নি। এ কারণে ময়লা-আবর্জনা পড়ে অনেক খাল ভরে গেছে।

এ ব্যাপারে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ বলেন, অতিবৃষ্টি ও নদীতে জোয়ার থাকায় পানি নামতে দেরি হয়েছে। এটাকে জলাবদ্ধতা বলা যায় না। এটা সাময়িক জলজট। জোয়ার শেষ হলে পানি এক ঘণ্টার মধ্যে নেমে যায়। তিনি বলেন, জোয়ারের সময় পানি পাম্প করে নামানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া ড্রেন ও কালভার্টগুলো নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই সকল ড্রেন পরিস্কারের কাজ শেষ হবে। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত