প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চতুর্থ নির্বাচন। ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়া এই সিটিতে বিগত তিনবারের নির্বাচনে দু’বারই জয় পেয়েছে বিএনপি। আর একবার আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান ছিল সামান্য। প্রথমবার ২০০৩ সালের প্রথম নির্বাচনে প্রায় অর্ধ লাখ ভোট বেশি পেয়ে যেখানে মেয়র নির্বাচিত হন সেখানে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ বিজয়ী হন মাত্র ৫শ’ ভোটের ব্যবধানে। এর পর তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবীব কামাল ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে শওকত হোসেন হিরণকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানটা অনেক কমে এসেছে।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ নির্বাচনে জয় পেতে বলতে গেলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জোরালো কোনো ধরনের প্রস্তুতি প্রকাশ্যে না থাকলেও ভেতরে ভেতরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মাঠ গোছানোর কাজ করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ইতিমধ্যে পুরনো কমিটি ভেঙে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকরা সাদিককে মেয়র প্রার্থী করতে দলীয় সভানেত্রীর কাছে লিখিত দিয়েছেন এক বছর পূর্বে। এমনকি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ও সভা করছেন সাদিক আব্দুল্লাহ। তারাও সাদিককে মেয়র পদে দেখতে চান বলে মত দিয়েছেন। মানবকণ্ঠ

এ ছাড়া ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি সাংগঠনিক সভায় সাদিককে মেয়র প্রার্থী করার জন্য প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা। আর এতে সুর মেলাচ্ছেন মহানগরের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন সাদিক আব্দুল্লাহ। কোথাও আবার ভোট চাওয়া হচ্ছে নৌকার পক্ষে।

আওয়ামী লীগের একাংশ বলছে, দুই বছরের সাংগঠনিক তৎপরতার বিবেচনায় সাদিকের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে অপর একটি অংশ এমনটা মানতে নারাজ। তারা মনে করেন বয়স ও রাজনীতিতে আসার সময় বিবেচনা করে সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি অতটা সহজ নাও হতে পারে। তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হবেন এই প্রশ্নের জবাবও খুঁজছেন নেতাকর্মীরা।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর মাঠে নেমেছেন কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তিনি বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে দোয়া চাওয়া শুরু করেছেন। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুনও সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি গত সিটি নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। শত অনুরোধ মামুনের মন গলাতে পারেনি। এ তিন প্রার্থী জোরেশোরেই তাদের প্রার্থিতার প্রচার চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও আরো চার প্রার্থী রয়েছেন যারা সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন চাইলেও দলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন সাদিক কিংবা জাহিদ ফরুক এই দু’জনের মধ্যে কাউকে দেয়া হতে পারে।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জাহিদ ফারুক শামীম মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে। সেই থেকে আলোচনায় জাহিদ ফারুক থাকলেও মাঝখানে তার কোনো খবর ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সাদিক আব্দুল্লাহ যেভাবে ৩০টি ওয়ার্ড গুছিয়ে নিয়েছেন তাতে করে তার বাইরে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে ফল ভালো হবে না। সাদিক মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করলে ক্ষতিটা হবে আওয়ামী লীগের। অপর দিকে সাদিককে মনোনয়ন দিলে কর্নেল ফারুকসহ আওয়ামী লীগের অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন এমন গুঞ্জন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে।

এদিকে বিএনপিতেও রয়েছে প্রার্থী নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা। এখানেও ঘুরে ফিরে আসছে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সর্ব প্রথম মজিবর রহমান সরোয়ারের নাম আসলেও সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি অতটা মাথা ঘামান না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সরোয়ার নির্বাচন না করলে প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে এমন কথা উঠেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। যদি এমনটা হয় তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন যে মাঠে থাকবেন এটা বলতে গেলে অনেকটাই নিশ্চিত।

কারণ হিসেবে একাধিক নেতা বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্র্থী করা হয় আহসান হাবীব কামালকে। সেই সময় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে চাঁন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাকে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতির পদ দিয়ে শান্ত করা হয়। কথা ছিল আহসান হাবিব কামাল ভবিষ্যতে আর নির্বাচন করবেন না। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার পর থেকে এবারো নির্বাচনী মাঠে থাকতে প্রস্তুতি নিয়েছেন কামাল। ফলে বিএনপিতেও জয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নিজ দলের নেতারাই। তাছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরীনও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ও মহানগর আওযামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, সভানেত্রী যাকে মেয়র প্রার্থী করবেন তাকে বিজয়ী করার জন্য তারা কাজ করবেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যাবেন না। একই উত্তর দিয়েছেন বর্তমান মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল এবং জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বরিশালে যে ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে এই নির্বাচনে দু’দলেই এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বড় দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকার আভাস মিলেছে। যদি তাই হয় তাহলে উভয় দলের ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। যদিও উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলছেন তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মাঠে কাজ করবেন। তাদের এই কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে জয়-পরাজয়ের হিসাব মেলাতে বেশ বেগ পেতে হবে উভয় দলকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত