প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উদ্বিগ্ন আমেরিকা, ব্রিটেন, জাতিসংঘ, ইউএনওডিসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন

তরিকুল ইসলাম : বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবর্হিভূত হত্যা অনতিবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, ইউরোপীয় ইফনিয়ণ, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দফতর (ইউএনওডিসি), ব্রিটেন এবং আমেরিকা। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলো একই সঙ্গে হত্যাকান্ডগুলোর সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

জেনেভা থেকে দেয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার জিয়াদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, এতো বিপুল সংখ্যক মানুষ হত্যায় আমি উদ্বিগ্ন। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ‘এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার জনগনকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছে কোনো নিরপরাধ মানুষ অভিযানে মারা যায়নি, তবে মাদকবিরোধী অভিযানে ভুল হয়ে থাকতে পারে।’ এ ধরনের উক্তি বিপদজনক এবং তা আইনের শাসনকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করার সামিল। প্রতিটি মানুষের বাঁচার অধিকার রয়েছে। মাদকদ্রব্য বিক্রি বা সেবনের সাথে জড়িত কেউ মানবাধিকার হারাতে পারে না।

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে বৃটিশ নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমন সতর্কতায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে এ অভিযানে সন্দেহভাজনরা নিহত হচ্ছে। ভ্রমন সতর্কতায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসরুপ নিতে পারে। রাজনৈতিক কার্যালয় এড়িয়ে চালুন। এ ছাড়া রাতের বেলা রিক্সা বা টেক্সিতে একা চলাচলে বিশেষ ঝুঁকি রয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে গণপরিবহন এড়িয়ে চলা উচিত।

মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সম্মুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দফতর (ইউএনওডিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের ওপর ইউএনওডিসি গভীর নজর রাখছে। তিনটি আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সনদ ও বিশ্ব মাদক সমস্যার ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আলোচনার ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখতে ইউএনওডিসি সব সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানাচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মান ও নীতি অনুসরন, প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধ উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সমাজের সাথে আবারো সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব দেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত ইউএনওডিসি।

মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ঢাকায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর এই উদ্বেগের সঙ্গে নরওয়ের ইইউ মিশনও সহমত জানিয়েছে। ইইউ’র ঢাকা মিশন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বৈশ্বিক একটি সমস্যা। বাংলাদেশ অনেক আগেই অঙ্গীকার করেছে, তারা আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো আদালতের আদেশের বাইরে বাড়তি শক্তি প্রয়োগ করবে না এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ইইউ আশা করছে, মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।

ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত রেনজি তেরিংক, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, জার্মানির রাষ্ট্রদূত টমাস হেনরিক প্রিন্জ, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি চুলেনার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিনসন ব্লেক, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিখাইল উইন্টার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত এলাভো ডি সালাস জিমেনিজ ডি আজকারেজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ক্যারোলা সিলটার এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারিয়া এনিক বরডিন সই করেন। এ ছাড়া বিবৃতির সঙ্গে নরওয়েতে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত সাইডেল ব্লিনকেন সহমত জানিয়ে সই করেছেন।

এ দিকে চলমান অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কার্যকর পন্থা নয়। অভিযানে মৃতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিয়ম মেনে সবার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমরাও চাই। তবে অভিযুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি। মূল অপরাধী এবং এর উৎস বন্ধ করা দরকার। মাদকের উৎস বন্ধ না করে এ অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে কি না-তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ