প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘অভিযান কি লোক দেখানো, শুধুমাত্র ত্রাস সৃষ্টির জন্যই করা হচ্ছে?’

আশিক রহমান: চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও কার্যত বাস্তবে তা দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বা মাঝারি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হলেও, জিরো টলারেন্স ঘোষণা থাকলেও কার্যত তা আমরা দেখতে পাই না। বড় বড় মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখছি না। তাহলে কি আমরা বলব, এ অভিযান কেবল একটা লোক দেখানো জিনিস। শুধুমাত্র একটা ত্রাস সৃষ্টির জন্যই এটা করা হচ্ছে? এটা যদি রাষ্ট্রীয় ত্রাস হয় তাহলে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের এই নিরাপত্তাহীনতার মানেই হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাষ্ট্র যদি আমাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই সমাজে তো মানবাধিকারের কোনো প্রশ্নই উঠে না। এই জায়গাটি রাষ্ট্রকে ক্ষতিয়ে দেখা দরকার, নাগরিকের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না। গভীরভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। এ অভিযান পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার বলে আমি মনে করি। আজকে একরাম হত্যা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ সম্পর্কে ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মিজানুর রহমান বলেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান কি একটা বিশেষ অভিযান? যদি বিশেষ অভিযান হয়ে থাকে তাহলে তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়। যুদ্ধ তো আর আর সারাজীবন ধরে চলতে পারে না। যুদ্ধ যদি হয়ে থাকে তা ছয়দিন, সাতদিন বা পনের দিনের জন্য যুদ্ধ হতে পারে। অথবা তিনমাসের জন্য যুদ্ধ হতে পারে। ইতিহাসে একমাত্র ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষের যুদ্ধ আমরা দেখেছি। আমরা নিশ্চয় ভুলেও শতবর্ষের যুদ্ধ চাইব না। তবে যদি যুদ্ধকালীন অবস্থা হয় সেটা ভিন্ন কথা, এমন পরিস্থিতি যদি সৃষ্টি হয় যুদ্ধ ছাড়া কোনো গতি নেই, সাংবিধানিক অন্যান্য প্রশ্ন তখন উঠতে শুরু করবে। কিন্তু অবশ্যই এই যুদ্ধ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের যে কর্মকাণ্ড অপরাধকে নির্মূল করা, অপরাধীদের শনাক্ত করা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, আইনের আওতায় নিয়ে আসা এটা তো সব সময়ই চলতে থাকবে। এটা তো চলমান একটি প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা বাহিনীর জন্মই তো হয়েছে ওই জন্য যে, ২৪ ঘণ্টা যেখানেই অপরাধ হবে, সেখানেই অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, অপরাধীদের ধরা, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এটিই তাদের কাজ। এটি একটি চলমান কাজ। সবসময় এই কাজটি চলতেই থাকবে যতদিন রাষ্ট্রের অস্থিত্ব থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ