প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পবিত্র রমজানে এতিম ও বিধবার প্রতি সহানুভূতি

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন : ইসলাম-পূর্ব যুগে এতিম ও বিধবার কোনো অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বাবা মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহায় সন্তানদের প্রতি শুরু হতো অত্যাচার-অবিচার ও জুলুম-নিপীড়ন। তাদেরকে তাদের অধিকার দেওয়া তো হতোই না; বরং এতিম শিশুদের জন্য বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য শুরু হতো ষড়যন্ত্র। অনুরূপভাবে কোনো নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তার কোনো অধিকার ছিল না। ইসলাম এতিমের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বিধবাকে মর্যাদা দিয়েছে। এতিমদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে— এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সঙ্গে ভালো মালামালের অদল-বদল কর না। আর তাদের ধনসম্পদ নিজেদের ধনসম্পদের সঙ্গে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস কর না। নিশ্চয়ই এটা বড়ই মন্দ কাজ। সূরা : নিসা, আয়াত : ২। এতিম-বিধবার জন্য উপার্জন করার মতো কেউ না থাকায় তাদের প্রতি দান-অনুদান অব্যাহত রাখার প্রতি ইসলাম উদ্বুদ্ধ করেছে। পবিত্র রমজান মাসে দান করার ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। তাই সবাই কমবেশি কিছু না কিছু এ মাসে দান করে থাকে। ব্যক্তিগত অনুদান, জাকাত ও ফেতরা দিয়ে এতিম ও বিধবাদের পাশে আমরা দাঁড়াতে পারি। হাদিসের কিতাবগুলোতে এতিম ও বিধবাকে দান করার ব্যাপারে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। রসুল (সা.) বলেন, বিধবা ও অসহায়দের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মতো। অর্থাৎ যারা অসহায় ও বিধবার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াবে তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার মতো সওয়াব পাবে। হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, আমার ধারণা আল্লাহর রসুল (সা.) এও বলেছেন যে, বিধবা ও অসহায়দের তত্ত্বাবধানকারীর মর্যাদা ওই ব্যক্তির মতো, যে অলসতা না করে সারা রাত জেগে এবাদত করে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন রোজা রাখে। বোখারি ও মুসলিম। এ হাদিস দ্বারা বিধবা ও অসহায়দের দায়িত্ব বহনকারী ব্যক্তির ফজিলত ও মর্যাদা বোঝা গেল। প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব, এ কথা বলে তিনি হাতের শাহাদাত ও মধ্যমা এ দুই আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন এবং উভয়ের মাঝে কিঞ্চিত ফাঁক রাখলেন। অর্থাৎ হাতের দুই আঙ্গুল যেমন একান্ত পাশাপাশি, তেমনি রসুল (সা.) ও এতিমের অভিভাবক একসঙ্গে জান্নাতে থাকবে। বোখারি শরিফ। অপর হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে— যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলাবে যেসব চুলের ওপর দিয়ে তার হাত অতিক্রম করবে এর প্রতিটির বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি তার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত এতিম বালক-বালিকার সঙ্গে ভালো আচরণ করবে, আমি ও সেই ব্যক্তি বেহেশতে এ দুটির মতো একত্রে থাকব। এ কথা বলে তিনি নিজ হাতের আঙ্গুল দুটি মেলালেন। মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি। যে ঘরে এতিম লালিত-পালিত হয় সেই ঘর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘর। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব মানবতার মুক্তির অগ্রদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, মুসলমানদের সেই ঘরটি সর্বোত্তম, যেখানে কোনো এতিম আছে এবং তার প্রতি ভালো ব্যবহার করা হয়। আর মুসলমানদের সেই ঘরটি সর্বাপেক্ষা মন্দ যাতে কোনো এতিম আছে অথচ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। ইবনে মাজাহ।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত