প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকবিরোধী অভিযান
‘তালিকা নিয়ে ভেতরে ভেতরে বাণিজ্য হচ্ছে’

নিউজ ডেস্ক: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি তালিকা ধরে ধরে দেশজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ওই তালিকা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের কথিত বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে নানান প্রশ্ন আছে জনমনে। অভিযোগ আছে, তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের নাম রাখা বা কেটে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের বাণিজ্য চলছে। এ ছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা। আর এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে সরকার আলোচিত হওয়ার চেয়ে সমালোচিত হচ্ছে বেশি।

বৃহস্পতিবার ‘মাদক নির্মূল অভিযান’ শীর্ষক এক বৈঠকিতে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নেন– মানবাধিকার কর্মী নূর খান, যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অপু উকিল, কবি ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বাকি বিল্লাহ এবং বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু।

বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু বলেন, ‘শীর্ষ ব্যবসায়ীরা মাঠে গিয়ে মাদক বিক্রি করে না; এ কাজ করে তাদের সেলসম্যানরা। ফলে অভিযানে বেশি ধরা পড়ছে এই সেলসম্যান বা মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই।’

নুরুজ্জামান লাবু বলেন, ‘বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বেশ কিছু সংস্থা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়ন করেছে। আর সেই তালিকা ধরেই এখন এই অভিযান চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা ও কেটে দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে ভেতরে ভেতরে একটা বাণিজ্য হচ্ছে, এটা ঠিক। এ ছাড়া, তালিকায় থাকা প্রথম সারির মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই অভিযান শুরুর পর আত্মগোপনে গিয়েছে। ফলে তাদের ধরা যাচ্ছে না।’

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান সময়োযোগী। অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন, তা ঠিক নয়। কারণ, দেশে মাদকের ভয়াবহতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে। দেশে এই অভিযান চলার পর এখন পর্যন্ত কত জন মারা গেছেন, তার হিসাব আমরা জানি। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

নূর খান বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ২টায় টঙ্গিতে রনি নামে একজনকে তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। এর তিন দিন পর বলা হয়, পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে রনি নিহত হয়েছে। এমন ঘটনা আরও বেশ কয়েকটি আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম, কয়েকটি পরিবার দাবি করছে, মাদকবিরোধী অভিযানে তাদের পরিবারের যে সদস্যরা নিহত হয়েছে, তাদের আগেই ধরা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেরে ফেলা হয়েছে পরে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা রাব্বীর পকেটে মাদক দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, আমরা দেখেছি। ফলে নানা দিক থেকে এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’

কবি ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেন, ‘অনেকেই হয়ত মনে করেন, এই ধরনের অভিযানের কারণে সরকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে। এমন ধারণা থেকে হয়ত এমন অভিযান চলে। তবে এ ধরনের অভিযানের কারণে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে সরকার আলোচিত হওয়ার চেয়ে সমালোচিত হচ্ছে বেশি।’

মাসুদা ভাট্টি আরও বলেন, ‘এই অভিযান (মাদকবিরোধী অভিযান) সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা অনেক আগের এক প্ল্যান। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন, সেখানে সবার মধ্যমণি হয়ে থাকেন। দেশের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওইসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাকে যদি প্রশ্ন করেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কী উত্তর দেবেন? এতে আমরা জাতি হিসেবেও তো একটু লজ্জায় পড়ে যাবো।’

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসা করছে, তারা বাইরের কেউ নয়; তারা আমাদের জনগোষ্ঠীরই একটা অংশ। এ ছাড়া, মাদক ব্যবসার জন্য কেবল তারাই অপরাধী নয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।’

বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দিকে বন্দুক তাক করে অভিযান শুরু করা উচিত রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র কি তা পারবে? তা তো পারবে না।’

যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। সে তালিকা ধরে ধরে এখন দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে।’

অপু উকিল বলেন, ‘কে কোন রাজনৈতিক দল করে বা কে কোন পরিবারের সদস্য তা বিবেচনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। সুতরাং তেমন কোনও অভিযোগ করার কোনও সুযোগই নেই। মাদকবিরোধীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা চলা উচিত।’

সমাজে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে বিরোধী কোনও দল বা মানুষ কিন্তু আগে কখনো সেভাবে সোচ্চার ছিলেন না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার ঘটানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে। এক পত্রিকার খবরে দেখলাম, বাংলাদেশের মাদকসেবীদের মধ্যে কোন ধরনের ইয়াবা দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে, তা নিয়ে মিয়ানমারে গবেষণা হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক চক্রান্তে এদেশে ভয়াবহ আকারে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত