প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকাতি করতে ভুয়া পরিচয়ে নৈশ প্রহরীর চাকুরি!

সুজন কৈরী : স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির জন্য ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে মার্কেটে নৈশ প্রহরীর চাকরি নেয়। পরে সুযোগ বুঝে কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে তা খাইয়ে অন্য নৈশ প্রহরীদের অচেতন করে। এরপর মার্কেটের সেসেটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে টার্গেটকৃত দোকানে ডাকাতি করে। এমন একটি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব।

বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ব্যাংক ও জুয়েলারি ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শামীম (৩৫), রাজা মিয়া (৪৮), শ্রীকান্ত ওরফে বাদল মল্লিক ওরফে বাদল দাশ (৫৫) মাসুদ (৪০) ও কালাম (৪২)।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গত ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডের হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের নাদভী জুয়েলার্স ও ক্রাউন জুয়েলার্সে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-১১ ছায়া তদন্তে নামে। পরে ২৬ এপ্রিল ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়া থেকে কাউসার ওরফে মাস্টার নামে এই চক্রের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে পাঠালে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয় যে, ১০ মার্চে নাদভি ও ক্রাউন জুয়েলার্সের ডাকাতির ঘটনায় সে অংশ গ্রহণ করেছিল। কাউসারের দেয়া তথ্য যাচাইবাছই করে প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে বুধবার রাতে এই সংঘবদ্ধ ব্যাংক ও জুয়েলারি ডাকাত চক্রের ৫ জনকে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, শমীমের পরিকল্পনায় ওই ডাকাতির আগে তারা দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নেয়। পরকিল্পনা অনুযায়ী কালাম, খালিদ ও মাসুদ ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে এই সুপার মার্কেটে নৈশ প্রহরীর চাকরি নেয়। ঘটনার দিন ১০ মার্চ অন্য নৈশ প্রহরীদেরকে সরবতের সঙ্গে চেতনা নাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরিকল্পনা মতে সিসি টিভি ক্যামেরার লাইন কেটে দেয় তারা। তারপর তালা ভাঙ্গায় পারদর্শি ও ভল্ট আনলক স্পেশালিষ্ট রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিক মার্কেটে প্রবেশ করে। পরে নাদভী ওক্রাউন জুয়েলার্সেও তালা কেটে ও ভল্ট খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট কওে নিয়ে যায়। লুটের পর তারা মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের হাসরা এলাকায় রাজা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে লুটের টাকা ও স্বর্ণালংকার ভাগাভাগি করে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিনিয়র এএসপি মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতার শামীম, রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিক দেশের অন্যতম শীর্ষ পেশাদার ব্যাংক ও জুয়েলারী ডাকাত। এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু চাঞ্চল্যকর ব্যাংক ও জুয়েলারি ডাকাতির সাথে জড়িত। ২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এ চক্র জয়পুরহাটের ব্র্যাংক ব্যাংক ডাকাতি করে ভল্ট খুলে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে র‌্যাবের অভিযানে লুটের টাকাসহ তারা তিনসহ অনেকে গ্রেফতার হয়। ১১ মাস পর জামিনে বের হয়ে আবারো তারা একই কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটে ২ জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি করে ৪৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা লুট করে। তাদের পরবর্তী টার্গেট ছিল চট্টগ্রামের লাকী প্লাজা ও সিঙ্গাপুর মার্কেট। তাদের গ্রুপে ১০/১২ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

অনুসন্ধানে র‌্যাব আরো জানতে পেরেছে, এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ২০০১ সালে পল্টন সুপার মার্কেটে সানফ্লাওয়ার জুয়েলার্স, ২০০২ সালে উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের আল রাজু জুয়েলার্স, ২০০৩ সালে গুলশানের আলম মার্কেটের নুর জুয়েলার্স, ২০০৪ সালে বাড্ডার লুৎফর টাওয়ারের ঢাকা ও সাউদিয়া জুয়েলার্স এবং খুলনার নিউ মার্কেট, ২০০৫ সালের উত্তরা মাসকট প্লাজার কনিকা জুয়েলার্স, আই কে জুয়েলার্স, পারমা জুয়েলার্স ও প্রেয়সী জুয়েলার্স, ধানমন্ডির প্রিন্স প্লাজার প্রিন্স জুয়েলার্স, রাকা প্লাজার মিতু জুয়েলার্স, সাভারের রাজ্জাক প্লাজায় এবং উত্তরার রাজলক্ষী কমপ্লেক্সের রাজু নন্দিনী ও রাজ মনি জুয়েলার্সের সর্বস্ব লুট করেছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত