প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বাংলাদেশি’ ঠেকাতে সীমান্তে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব উলফার

মাছুম বিল্লাহ: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পাশাপাশি নতুন আরেকটি বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাটানো উলফা সভাপতি অনবিন্দ রাখোয়া ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া।

ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় থাকা উলফার এই দুই শীর্ষনেতা বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় উলফার সাবেক ক্যাডারদের নিয়ে ‘খিলিঞ্জিয়া বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। গত সপ্তাহে দিল্লিতে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বৈঠকে উলফা নেতারা এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

বুধবার টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া বলেছেন, ‘আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ একটি জ্বলন্ত সমস্যা এবং বহুদিন ধরেই আসামকে এর ফল ভুগতে হচ্ছে। আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একটা নতুন মাত্রা পাবে। নতুন এই ‘খিলিঞ্জিয়া বাহিনী’ বিএসএফের পর একটি ‘সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স’ হিসেবে কাজ করবে। এরা আসামের সীমান্তকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।’

অসমিয়া ভাষায় খিলঞ্জিয়া কথাটির অর্থ ‘ভূমিপুত্র’ বা ‘মূলবাসী’। তবে খিলঞ্জিয়া বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হবে, তা নিয়ে আসামে প্রচুর বিতর্কও আছে- আর খিলঞ্জিয়া শব্দের সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়েও রয়েছে বহু মতভেদ। তবে উলফার আলোচনাপন্থী নেতারা ভারত সরকারের কাছে যে খিলঞ্জিয়া বাহিনী গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে এককালের দুধর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠন উলফার সাবেক ক্যাডারদের ঠাঁই দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের দায়িত্ব হল বর্ডারকে নিñিদ্র রাখার- অথচ তাদের বিরুদ্ধে প্রায়শই অসংখ্য অভিযোগ ওঠে যে তারা ঘুষ নিয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেন।’ ‘এই কারণেই আমরা খিলঞ্জিয়া বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।

উলফার যে সশস্ত্র ক্যাডার বা জঙ্গি সদস্যরা বিগত বছরগুলোতে আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল ¯্রােতে ফিরে এসেছেন, তাদের নিয়েই এই বাহিনী গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তবে তারা এটাও জানিয়েছেন, এই খিলঞ্জিয়া বাহিনীতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী সদস্য থাকবেন না- তারা হবেন নিরস্ত্র, বড়জোর লাঠিসোঁটার মতো হাতিয়ার বহন করবেন।

অনুপ চেটিয়া বলেন, ‘খিলঞ্জিয়ার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এসেছি বলে তাদের আমরা ভুলে যেতে পারি না।’

অরবিন্দ রাজখোয়া বা অনুপ চেটিয়া, আলফার এই দুই শীর্ষ নেতাই বছরের পর বছর বাংলাদেশে ছিলেন। অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালে ঢাকায় আটক হওয়ার পরে ২০১৫ সালে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ২০০৯ সালের নভেম্বরে অরবিন্দ রাজখোয়াকেও গোপনে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।

অনুপ চেটিয়া ও অরবিন্দ রাজখোয়াই এখন মূলত ভারত সরকারের সঙ্গে উলফার শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উলফার আরেক নেতা পরেশ বড়ুয়া এখনও স্বাধীনতার দাবিতে ভারতের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত