প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে দেশ, কুলহারা সাধারণ মানুষ’

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিনা সে সম্পর্কেও কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে দেশের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে একটি উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকলের মাঝে একটিই ভাবনা ঈদের পর কি হবে?

নোয়াখালি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জুনায়েদ আহমেদ। তার সাথে কথা হয় ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন নিয়ে। জানায় ঈদের পরে কি হবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে তারা। আন্দোলনে যাতে শিক্ষাবর্ষের উপর কোনো প্রভাব না পড়ে তাই পরীক্ষা এগিয়ে আনা কথাও জানায় সে।

বিএনপি ২০১৩ সাল থেকেই ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে আসছে। কার্যত কোনো আন্দোলনের দেখা পায়নি দেশের মানুষ। তাই অনেকের মাঝে এটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া কিছুই নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামছুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির ঈদের পরে আন্দোলন’ এ কথা এখন বিনোদনে রূপ নিয়েছে। মূলত এই ঈদের পরও বিএনপি কোনো আন্দোলনে যেতে পারবে না।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে এমনটাই মনে হলো। তারা দলের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিয়েছেন সরকারের উপর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথায় সংকট আর সরকারের কাছে অসহায় আত্মসমর্পনের ছায়া। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, সেটা নিরসন করতে হলে যারা ক্ষমতায় রয়েছে তাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন ক্ষমতাসীন দলসহ বিরোধীদল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেবে। এই সংকটের সমাধান করার জন্য যে পথ অবলম্বন করা দরকার সেই পথে সরকার পা বাড়াবে না বলে হতাশার প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল বিএনপির পক্ষে যায়নি। সরকারদল যে শুধু বলপূর্বক ভোট কেড়ে নিয়েছে তা নয়, বরং বিএনপি’র অভ্যন্তরেও জানা হয়ে গেছে ’মাঠে তাদের অবস্থা ভাল নয়’। সরকার দলের হামলা মামলা ও শোষণ নিপীড়নের অভিযোগ করে রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান করছেন দলের নেতারা। বলতে গেলে গা বাঁচিয়ে চলছেন তারা। ফলে আগামী নির্বাচন বা ভবিষ্যত সর্ম্পকে এখনো অনিশ্চিত দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে বিএনপির একজন স্থানীয় নেতা বলেন, কেন্দ্রের নেতারা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামেন না। তারা ঘরে বসে থাকেন। যার কারণে আজ আমাদের নেত্রী এতো দিন পর্যন্ত কারাগারে অবস্থান করছেন। আমরা আশা করবো কেন্দ্রের নেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য এবং আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সক্রয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন।

সরকার এখন পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া ব্যাপারে অনড় অবস্থানে আছেন। এ অবস্থান থেকে সরে না আসলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদর রহমান মান্না। তিনি বলেন, সরকার ২০১৪ সালে মতো আরেকটি নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। তারা এই অবস্থান থেকে সরে না আসলে ঈদের পর দেশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে । এর দায়ভার সরকারের উপর বর্তাবে। আমরা চাইবো বড় দলগুলো সমাধানের পথ খুঁজবেন।

এ ব্যাপারে কথা বললে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শুনালেন দেশের সংকটের কথা। বললেন, আমরা এখন একটি সংকটের মধ্যদিয়ে দিন পার করছি। ‘সংকটটা হলো দেশের মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন না। সবার যেটা ভয় এবং উদ্বেগ যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারবে না, গায়ের জোরে একটা সরকার আসবে। তবে বিএনপি কি করবে সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই তার।

দেশে এখন কোনো সংকট রয়েছে এ কথার সাথে একমত নয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো সংকট নেই। বিএনপি যেটা দাবি করছে এটা রাজনৈতিক। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিরোধীতা তারা করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরাও বলছি সংবিধান অনুযায়ী যতটুকু করা যায় আমরা ততটুকু করবো। বিএনপি সহিংসতা না করে নির্বাচনে আসবে এবং একটি ভালো ফলাফল লাভ করবে এমনটাও প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জাতীয় নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সহিংস পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যাতে ক্ষতি হচ্ছে দেশের এবং সাধারণ জনগণের। দেশের প্রতিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা তৈরি হয়েছে তাতে ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা এবং প্রাণ দিতে হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের। এ অবস্থা থেকে উত্তোলন চায় দেশের সর্বস্তরে মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে এর জন্য সকল দলই দায়ী। এর থেকে উত্তোলন করতে হলে সরকারী দল এবং তাদের বিরোধী সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের নিজেরদের জন্য নয়, দেশের জন্য এবং দেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত