প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধিক মুনাফা আদায়কারীরা পরকালে সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে : সাইফুল ইসলাম ফারুকী

আমিন মুনশি: সততার সাথে লেনদেনকারী, আমানতদার ব্যবসায়ীরা কেয়ামতের দিন নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সাথে থাকবেন। আর যারা অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যে ভেজাল মেশায়, ওজনে কম দেয়, মিথ্যা কথা বলে, মাহে রমজানে পণ্যের দাম বাড়িয়ে রোজাদারদের ভোগান্তিতে ফেলে তারা এই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে। দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সাথে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন রাজধানীর তেজকুনিপাড়া জামে মসজিদের খতিব ও তেজগাঁও রেলওয়ে জামিয়া ইসলামিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফারুকী। মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফারুকী বলেন, ব্যবসা- বাণিজ্য করা আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নত। যদিও দৃশ্যত এটাকে দুনিয়াদার সুলভ কাজ মনে হয়। কিন্তু এ কাজ যদি কেউ সততা ও সত্যবাদিতার সাথে করে, তবে তার জন্য এটা ইবাদতে পরিণত হয়। আর সদগুণাবলীর অধিকারী ব্যবসায়ীরা আল্লাহ তায়ালার পুণ্যবান বান্দা নবী, সিদ্দিক ও আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণকারীদের সাহচর্য লাভ করবেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২১৩৯) প

ক্ষান্তরে যারা ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ করে, সিন্ডিকেট করে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি করে তারা কেয়ামতের দিন অপরাধীদের কাতারে থাকবে। কেননা, দীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা। অন্যের উপকার করা, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করা। এই কল্যাণকামিতার নামই ইসলাম। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৯৫)

তিনি আরো বলেন, খাদ্য ও পণ্যে ভেজাল দেয়ার ফলে ভেজাল মেশানোর কাজে জড়িত ব্যক্তি অপরের ক্ষতিতে সচেষ্ট হয়। শুধু তা-ই নয় বরং সে নিজেও অন্যের ভেজালে আচ্ছাদিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কারণ, সেও তো এ সমাজেরই একজন সদস্য। মহান আল্লাহ এমন কর্মকা-ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে ‘তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না’ (সূরা নিসা, ৪:২৯)

অধিক মুনাফা লাভের নেশায় ফরমালিন বা ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য খাদ্য বা পণ্যে মিশিয়ে কিংবা মন্দ লুকিয়ে রেখে বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন- ‘মহানবি (সা.) একদা একটি খাদ্য স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপটির মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাতে তাঁর হাত ভিজে গেল। মহানবী (সা.) বিক্রেতাকে বললেন, এটা কী হচ্ছে? সে বলল, এগুলোকে বৃষ্টিতে পেয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কেন ভেজা অংশকে বাইরে রাখলে না, যাতে লোকেরা তা দেখে নিতে পারে। জেনে রেখো, যারা প্রতারণা করে, তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’। (তিরমিজি) তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্ত্বেও না বলা হারাম’ (মুসলিম) তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথা সময়ে বাজারে সরবরাহ করে সে আল্লাহর রহমত ও অধিকতর জীবিকা লাভের যোগ্য। আর যে ব্যক্তি মজুদদারীতে লিপ্ত, সে অভিশপ্ত’। (ইবনে মাজা) হযরত মুয়ায থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন: ‘মজুদদার হচ্ছে নিকৃষ্ট বান্দা। আল্লাহ যদি জিনিসপত্র সস্তা করে দেন তবে সে মনোকষ্টে ভোগে। আর যদি বাজারে দাম বাড়ে তবে সে খুশী হয়’। (মিশকাত)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত