প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার চেয়ে আইসিসিতে ৪শ রোহিঙ্গার আবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট: মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন করেছে ৪শ রোহিঙ্গা। গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের আইনজীবীরা বুধবার আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। সেখানে তারা যুক্তি দেয়, আইসিসির উচিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো ও তাদের বিচারের মুখোমুখি করা। রোহিঙ্গাদের আশঙ্কা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে এ ধরনের অপরাধ চলতে থাকবে এবং অন্য জাতিগোষ্ঠীর ওপরও নিপীড়ন ছড়িয়ে পড়বে। স্কাই নিউজ জানিয়েছে, আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করবেন যে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা যেহেতু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশ আইসিসিভুক্ত দেশ, সেক্ষেত্রে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব।

মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিধনযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে তার আওতা বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের মতে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ায় নিধনযজ্ঞের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক বিচার সম্ভব।

রোহিঙ্গা বিতাড়নকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনা করে মিয়ানমারের বিচার শুরু করা যায় কিনা; গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯ এপ্রিল) সে ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে আইসিসিতে আবেদন করেন এর কৌঁসুলি ফাতাও বেনসুউদা।

কয়েকদিনের মাথায় এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকার অপরাধ আদালতের কৌঁসুলির পদক্ষেপকে ১৯৬৯ সালের জাতিসংঘের ভিয়েনা চুক্তি ও আইসিসি সনদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন আখ্যা দেয়। নেপিদোর পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা আখ্যা দেয়া হয়। একইদিনে পাল্টা বিবৃতিতে আইসিসির কৌঁসুলিদের দফতর থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় মিয়ানমারের বিচারের ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে আইসিসিতে করা কৌঁসুলি বেনসুউদার আবেদন, এ বিষয়ে তার পূর্ণ সতর্কতার বহিঃপ্রকাশ। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কৌঁসুলিদের প্রবল আকাক্সক্ষা থাকলেও তারা কোন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও বিচার ব্যবস্থার আওতার মধ্যে থেকেই তা করতে চান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আইসিসি সনদ ও ভিয়েনা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ। কৌঁসুলিদের দফতর থেকে দেয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য অপরাধের একাংশ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। তাই আইসিসির আওতায় মিয়ানমারের বিচার সম্ভব। আজ সেই জায়গা থেকেই রোহিঙ্গাদের আইনজীবীরা মিয়ানমারের বিচারের আবেদন জানাতে যাচ্ছেন। সূত্র: সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত