প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ বিদেশে

ডেস্ক রিপোর্ট: নব্বইয়ের দশকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় গত রোববার মুক্তি পায়। গত তিন দিনে জানাজানি না হলেও গতকাল বুধবার জোসেফের কারামুক্তির বিষয়টি প্রকাশ পায়। এর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে তার মুক্তির বিষয়টি।

মুক্তির পর জোসেফ কোথায় আছে, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার পরিবারের। তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, জোসেফ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রোববার সেখান থেকেই গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গেছে জোসেফ। এর আগে ২০১২ সালে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিদেশে চলে যায় গোপনে।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোসেফের মুক্তির বিষয়টি সরাসরি বলেননি। তবে মন্ত্রী বলেছেন, ‘তিনি (জোসেফ) আবেদন করেছিলেন- ভয়ানক অসুস্থ। তার এক কিংবা দেড় বছর সাজা ভোগের বাকি ছিল। মারসি পিটশন করেছিলেন তিনি সেটার জন্য। খুব সম্ভবত মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন তাকে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জোসেফের কিছু অর্থদ ও ছিল। সেগুলো আদায় সাপেক্ষে তাকে বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা করার পারমিশন দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এটুকুই আমি জানি; এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।’

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল জোসেফ। ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রোববার ওই আসামির মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে আদেশ আসে। এটি যাচাই করে ওই দিনই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে। বিভিন্ন মামলায় প্রায় ২০ বছর ধরে জোসেফ কারাগারে ছিল।

যে প্রক্রিয়ায় মুক্তি :কারা সূত্র বলছে, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত জোসেফ। এর আগে দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তাকে জেলে ফিরিয়ে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এর পর আবার অসুস্থ হলে গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেকটা গোপনে ভর্তি করা হয়।

ওই সূত্র জানায়, জোসেফ গুরুতর অসুস্থ- এমন আবেদন জানিয়ে ২০১৬ সালে তার মা রেনুজা বেগম সন্তানের সাজা মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে ১০টির নিষ্পত্তি হলেও একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা থাকায় আবেদনটি আটকে যায়। তবে সেই সাজার ২০ বছর শেষ হলে তার মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ২০ বছর কারাভোগ পার হলে কারা কর্তৃপক্ষ তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। ওই ফাইলে কারাবন্দি আসামির আচরণ, কারাগারে দায়িত্বশীলতা এবং তার পাওনা ছুটির তথ্যও দেওয়া হয়। জোসেফের ২০ বছর দণ্ড ভোগ শেষ হওয়ায় এ ধরনের ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই জোসেফের পরিবারের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা চাওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেওয়ায় জোসেফকে মুক্তি দিতে আর বাধা ছিল না।

যে মামলায় জোসেফ অনুকম্পা পেল :পুলিশ, কারাগার ও আদালত সূত্র জানায়- হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে জোসেফের বিরুদ্ধে মামলা ছিল মোট ১১টি। এর মধ্যে ১০টি মামলা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। তবে ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী ও ফ্রিডম পার্টির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলায় যাবজ্জীবন কারাভোগ করছিল সে।

ওই মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৭ মে খুন হন মোস্তাফিজুর রহমান। পরদিন মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী রাশিদা পারভীন। ওই বছর ৮ অক্টোবর পুলিশ অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। ওই মামলায় ২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামি জোসেফ ও মাসুদ জমাদারের মৃত্যুদ এবং কাবিল সরকার, আনিছ আহমেদ এবং জোসেফের ভাই হারিছ আহমেদের যাবজ্জীবন কারাদ হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জোসেফ, মাসুদ ও কাবিল। আনিছ ও হারিছ বিচারের শুরু থেকেই পলাতক। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে জোসেফ ও কাবিলের সাজা বহাল থাকে, ফাঁসির আসামি মাসুদ জমাদার খালাস পায়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে আপিল করে জোসেফ। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের শেষ দিকে জোসেফের মৃত্যুদে র সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই মামলাতেই যাবজ্জীবন সাজাভোগের প্রায় ২০ বছর পর অনুকম্পায় মুক্তি পেল জোসেফ।

পুলিশ সূত্র বলছে, নব্বইয়ের দশকে মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিল জোসেফ ও হারিছের আরেক ভাই সাঈদ আহমেদ টিটু। এর পর থেকেই মূলত দুই ভাই অপরাধ জগতে জড়ায়। এক সময় জোসেফ মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশপাশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত