প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আপনাদের কারণে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে : আদালত

রবিন আকরাম : বেসিক ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির মামলার পর এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র না দেয়ায় চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, আপনাদের নির্লিপ্ততার কারণে যেসব আসামি ভেতরে আছে তারা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আপনাদের সখ্য আছে বলে মনে হচ্ছে। চার্জশিট দিতে দেরি করছেন, যাতে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়। আমরা তাদের জামিন দিতে বাধ্য হচ্ছি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর তদন্ত আড়াই বছরেও শেষ করতে না পারায় বুধবার ৫৬ মামলার ১০ কর্মকর্তাকে ডেকে ক্ষোভ, উষ্মা ও হতাশা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পরে শুনানি শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) আদেশের দিন ধার্য করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে বেসিক ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি ফজলুস সোবহানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। ব্যাংকের গুলশান শাখার ম্যানেজার শিপার আহমেদের পক্ষে ছিলেন পঙ্কজ কুমার কুণ্ড। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। এ সময় দুদকের ৫৬ মামলার ১০০ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে আদালত ফজলুস সোবহানের ছয় মামলায় এবং শিপার আহমেদের এক মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) আদেশের দিন ধার্য করেন। এর আগে ২৩ মে বেসিক ব্যাংকের বিভিন্ন মামলার আসামি ফজলুস সোবহান, শিপার আহমেদসহ কয়েকজনের জামিন শুনানিতে দুদকের সব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বুধবার হাজির হতে নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও পর্ষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঋণপত্র যাচাই না করা, জামানত ছাড়া ও জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও কাগজসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ওই ঋণ অনুমোদন করার অভিযোগ ওঠে। এরপর অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শুরুর প্রায় দুই বছর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর গুলশান, পল্টন ও মতিঝিল থানায় ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় ১৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে মোট দুই হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা। বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত