প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পানির অপর নাম জীবন+মরণ!

সারওয়ার-উল-ইসলাম: পানির অপর নাম জীবন। এই কথা শুনে আসছি ছোটবেলা থেকে। পানি বেশি খেতে হবে, চিকিৎসকের এই পরামর্শও মনে গেঁথে আছে। পানির অপর নাম যদি জীবনই হয় তা হলে এই পানির কারণে তা হলে মৃত্যু কেন হাতছানি দেয়? পানিবাহিত রোগের কারণে অনেকের জীবন প্রায় যায় যায় করে অনেক সময়।

ঢাকা ওয়াসা আমাদের এই জীবন রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, আমাদের জীবনের সাথে সাথে মরণের দায়িত্বটাও বোধহয় নিয়েছে ওয়াসা। তা না হলে কেন ওয়াসার পানিতে ময়লা পাওয়া যাবে? যে ময়লা পানির কারণে পেটের অসুখ থেকে শুরু করে টাইফয়েডসহ নানা ধরণের রোগ ছড়াবে?
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হবে কেন- ডায়রিয়া-টাইফয়েড ও জণ্ডিস থেকে রক্ষা পেতে পানি ফুটিয়ে পান করুন। ওয়াসা তা হলে আমাদের কি খাওয়াচ্ছে?

আমরা প্রায় সময় শুনতে পাই অমুক এলাকায় মাসের পর মাস ধরে পানি সংকট। ২৪ ঘণ্টার ভেতর মাঝরাতে তিন ঘণ্টা আসে, তাও অল্প। আবার শুনে থাকি অমুক জায়গায় স্যুয়ারেজের লাইনের সাথে ওয়াসার খাবার পানি লাইনের সংযোগ ঘটে যাওয়ায় পানির সঙ্গে ময়লা আসছে।
এখন কথা হচ্ছে ওয়াসার এত সমস্যা মেনে নিয়ে- বিশেষ করে পানি না পেয়ে কেন একজন গ্রাহক মাসের শেষে বিল দিবে? আবার এই পানি পান করে জীবন নিয়ে যখন টানাটানি পড়ে যায় কোনো পরিবারে সেই পরিবারের মানুষ কেন ওয়াসার প্রতি আস্থা রাখবে? এর পাশাপাশি আছে সময় মত বিল পরিশোধ না করার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি। একজন নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আবার কেউ বিল পরিশোধ না করে বিচ্ছিন্নকারী টিমকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে মাসের পর মাস চলছে নিশ্চিন্তে।
ঢাকা ওয়াসার এত সেবা দিয়ে যাচ্ছে যে, গত অর্থ বছরে দুই দফা পানির দাম বাড়িয়েছে। আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে তৃতীয় দফা বাড়াচ্ছে।

প্রশ্ন হল, গ্রাহকের সেবার মান না বাড়িয়ে কেন বারবার পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে? পানির অপর নাম জীবন বলেই কি জীবনদাতা প্রতিষ্ঠান বেরসিকের মত কাজ করছে। অর্থাৎ বুঝিয়ে দিচ্ছে জীবন দীর্ঘায়িত করার জন্য অর্থ নেয়া হচ্ছে। তার মানে কি পানিবাহিত রোগে যারা বেঁচে যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে বাড়তি আদায় করার প্রকল্প হাতে নেয়া? খুবই পরিহাসের বিষয়, যেখানে মানুষ পানি পাচ্ছে না মাসের পর মাস, আবার কোথাও কোথাও দিনে একবার দুই তিন ঘণ্টার জন্য পানি আসছে, কোথাও বা পানি এলেও ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় বাজার থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে খেতে হচ্ছে, সেখানে মাসের শেষে ঠিকই বিলটি ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সময় মত বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ কর্তনের নোটিশ পাঠিয়ে রসিকতা করা হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, নতুন করে সংযোগ নিতে গেলে ঘুষ দিতে হচ্ছে। সেই ঘুষের বিষয়টি প্রকাশ্য। কোনো প্রকার রাখঢাক নেই। তবে শব্দটি ঘুষ নয়, ‘অফিস খরচ’ নামে সেই ঘুষ ছাড়া সংযোগ পাওয়া দুষ্কর। কোনো প্রকার অনুরোধ চলবে না। অফিস খরচ ছাড়া সংযোগ মিলবে না। ঢাকা ওয়াসার আঞ্চলিক কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণির কর্তাব্যক্তিরা সেই অফিস খরচের ভাগ পান।
পানির অপর নাম যদি জীবন-ই হয়, আর সেই জীবনদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা কবে পাব প্রকৃত সেবা? কবে পাব বিশুদ্ধ পানি। কবে পাব বিশুদ্ধ মানুষের কাছ থেকে প্রকৃত সেবা? যারা নিয়মিত পানি দিয়ে তাদের বিলটি নিবে। যারা অবৈধ সংযোগ দিয়ে মাসের পর মাস কামাবে না কোটি কোটি টাকা। যেখানে পানির লাইন ফেটে গেছে সেটা খুঁজে বের করে মেরামতের ব্যবস্থা করবে। ময়লা পানি পান করা থেকে গ্রাহককে রক্ষা করবে।

ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন, ওয়াসার পানি উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১৫ টাকা, সেটা আবাসিক সংযোগে বিক্রি করা হয় ১১ টাকার কিছু বেশি। সেই ঘাটতিটুকু সমন্বয় করতে বাণিজ্যিক সংযোগ থেকে কিছু আর ভর্তুকি দিয়ে চালাতে হয়।
আর যে টাকা অবৈধ সংযোগ থেকে ওয়াসার বিচ্ছিন্নকারী লোকজন নিয়ে থাকে প্রতি মাসে, সেই টাকা কাদের পকেটে যায়? শুধু কি তাই? ঢাকা শহরের অনেক বস্তি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের মতো ওয়াসার লাইন দেয়া হয়েছে, যেখানে নিয়মিত পানি থাকছে, কোনো পানির সংকট নেই, সেখান থেকে কারা টাকা তুলে নিচ্ছে? সেই হিসেব ওয়াসার কর্তাব্যক্তিদের কাছে চাওয়াটা খুবই কি বেরসিকের কাজ হবে?

আবার বলছি, পানির অপর নাম জীবন, ছোটবেলা পড়েছি। এখনও বিশ্বাস করি। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে তাদের পাওনা ঠিক মতো বুঝে নিক, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ময়লা পানি পান করিয়ে, কিংবা মাসের পর মাস পানি না পেয়ে, অনেক দূর থেকে নিত্যদিনের ব্যবহার্য পানি এনে, দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে মাসের পর মাস চালানো হলে সেটা কতটা অমানবিক সেটা একটু বুঝবেন নিশ্চয়ই ওয়াসার কর্তাব্যক্তিরা।

পানির অপর নাম জীবন-এই প্রবাদটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে চাই না পানির অপর নাম মরণ। পানির দাম বাড়ান, কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রয়োজনীয় সেবাটুকু দিতে কার্পণ্য করে নয়।সূত্র: চ্যানেল আই

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত