প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশুদ্ধ ইফতারি
ঘরের ইফতারিই বেশি নিরাপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইফতারি মানেই ভিন্ন স্বাদের হরেক রকম খাবার। সারা দিন রোজা রেখে সবাই সুস্বাদু ও নানা স্বাদের ইফতারি পছন্দ করে। তাই ইফতারির মেন্যুতে থাকা চাই ভিন্নতা। বুট, পিঁয়াজু, বেগুনি আর মুড়ি তো অত্যাবশ্যকীয়। সঙ্গে থাকা চাই অন্য পদের খাবার। স্বাদের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের জন্য অনেকেই বাইরে থেকে ইফতারি কেনে। বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ তেলে ভাজা ইফতারি তৈরি করে। একই তেলে বারবার ভাজাও হয়। এ ছাড়া থাকে অতিরিক্ত মসলা ও ক্ষতিকর রং। ফলে তাতে এসিডিটি, আলসার, ডায়রিয়াসহ নানা অসুখের শঙ্কা থাকে।

এ অবস্থায় শুধু বৈচিত্র্য নয়, ইফতারির স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিমানের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। তাই বেশির ভাগ মানুষই ঘরে তৈরি করে নেয় নানা পদের ইফতারি। তাতে স্বল্প খরচে ইফতারির নিশ্চয়তা যেমন মেলে, তেমনই মেলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারি।

জানা যায়, বাইরে তৈরি বেশির ভাগ ইফতারি দুই ধরনের। ডুবো তেলে ভাজা ইফতারি এবং অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত ইফতারি। ডুবো তেলে ভাজা পিঁয়াজু, পাকোড়া, সমুচা, রোল বেশ মজাদার হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ইফতারির মধ্যে রয়েছে গোলাপজাম, বুন্দিয়া, জিলাপি ও নানা জাতের মিষ্টি। চর্বিযুক্ত ইফতারির মধ্যে রয়েছে ঘিয়ে ভাজা খাবার, চিকেন ফ্রাই, ফ্রায়েড ফিশ এবং কাবাব জাতের নানা খাবার। ক্ষেত্রবিশেষে এসব খাবারেও ক্ষতিকর নানা উপাদান রয়েছে। এ জন্য অনেকে ঘরেই ইফতারি তৈরি করে।

বাইরের ইফতারি মোটেও পছন্দ করেন না একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আজমেরী হক। তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমি ঘরেই ইফতারি তৈরি করি। নিজের হাতে লেবুর শরবত তৈরি করি। এ ছাড়া চেষ্টা করি, ইফতারে ফুড আইটেম রাখতে। দই-চিঁড়া-কলা সঙ্গে কয়েক জাতের সালাদ দিয়ে ইফতার করি।’ আজমেরী হক বলেন, ‘ইফতারে চিঁড়া খেতে পছন্দ করি। চিঁড়া তাত্ক্ষণিক শক্তি জোগায়। শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।’

কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইফতারি ঘরে তৈরি করতেই তাঁরা পছন্দ করেন। কিছু খাবার বাইরে থেকে আগেই কিনিয়ে আনেন। পরে বাসায় তা তৈরি করা হয়। বাইরের ভাজাপোড়া তাঁদের কাছে তেমন পছন্দ নয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য বাইরের খাবার বেশ ক্ষতিকর। তেলে ভাজা খাবার রক্তে সুগার বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া বাইরের খাবার আকর্ষণীয় হলেও শরীরের জন্য রয়েছে ক্ষতিকর নানা উপাদান। ঘরে তৈরি খাবারে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি কম থাকে। এ অবস্থায় বাসায় তৈরি ইফতারি পছন্দ করে অনেকেই।

রাজধানীর মগবাজারের গৃহিণী হাফিজা আনজুম চৌধুরী বলেন, ‘সময় স্বল্পতার কারণে অনেকেই বাইরে থেকে ইফতারি কেনে। কেউ কেউ আবার ইফতারি তৈরিকে ঝামেলা মনে করে। কিন্তু চাইলেই ঝটপট ইফতারি তৈরি করা যায়। বাইরের ইফতারির চেয়ে ঘরে তৈরি ইফতারিই বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।’ তিনি আরো বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের সময় পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ডাব ও নানা জাতের তাজা ফলের শরবত হতে পারে অত্যন্ত উপকারী। লেবুর শরবত বানানো খুব সহজ, তা অত্যন্ত উপকারী।’

হাফিজা আনজুম চৌধুরী আরো বলেন, ‘মোটামুটি চারজন মানুষের ইফতারি তৈরি করতে এক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। বাইরে থেকে কেনা নানা খাবার দিয়েই তৈরি করা যেতে পারে ঝটপট ইফতারি। এ ক্ষেত্রে পাকা রাঁধুনি না হলেও চলবে। ছোলা, পিঁয়াজু, শরবত ঘরে তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। এ জন্য আন্তরিক ইচ্ছাই যথেষ্ট।’

রাজধানীর ধানমণ্ডির গৃহিণী আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘বেশির ভাগ ইফতারি ঘরেই তৈরি করি। ছোলা ও মুড়ির সঙ্গে প্রতিদিনই তৈরি করি নানা ধরনের শরবত। মাঝেমধ্যে থাকে সেমাই, পায়েস, পুডিং, ফ্রুটস কাস্টার্ড ইত্যাদি। মুড়িটা বাইরে থেকে কিনে আনা হয়। বাকি সব ঘরেই তৈরি করি।’ সূত্র: কালেরকন্ঠ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত