প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এমপিও যাইন, কিন্তুক সড়ক ঠিক অয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘গাতা (গর্ত) অওনের পর থাইক্যা অনেকে আইয়া খালি ফডো তুলে, মাফজোক করে। এমপিও (সংসদ সদস্য) এই সড়ক দিয়া মাঝেমধ্যে যাইন। কিন্তুক সড়ক তো ঠিক অয় না। অহন তো আর সহ্য অয় না। মনে অয় বেহে (সবাই) মিইল্যা সড়ক বন্ধ কইর‌্যা দেই।’

সম্প্রতি গিয়ে বেহাল ময়মনসিংহের নান্দাইল-হোসেনপুর সড়কের ছবি তোলার সময় এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলেন নান্দাইল উপজেলার জামতলা এলাকার মো. তারা মিয়া। অন্য এলাকাবাসীও একই ধরনের কথা বলে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানায় তারা।

নান্দাইলের ভেতর দিয়ে যাওয়া নান্দাইল-হোসেনপুর সড়ক হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে নান্দাইল, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ। যানজট এড়িয়ে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানোর সহজতম সড়ক এটি। অন্য অঞ্চলেও যানবাহন চলাচল করে সড়কটি দিয়ে। কিন্তু সড়কটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। গর্তে ভরা সড়কে চলতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাড়ির যাত্রী ও পথচারীদের। বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যানবাহন উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের জামতলা ও সিংরুইল ইউনিয়নের শিয়ালধরা বাজার এলাকায় সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে ছয় মাস আগে কার্পেটিং ও পাথর-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে আরো বড় হয়েছে গর্তগুলো।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে জানা যায়, প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নান্দাইল-হোসেনপুর সড়কটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বশেষ সংস্কার ও প্রশস্ত করা হয়। চার বছর পার না হতেই বিটুমিন ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে আবার সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করা হলে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল বাদ দিয়ে নান্দাইল ছাড়াও পাশের হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার লোকজন সড়কটিকে চলাচলের জন্য বেছে নেয়। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও ঢাকায় গিয়ে নিয়মিত অফিসও করে। গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম নিয়ে ঢাকায় গিয়ে অনেকেই দিনের মধ্যে চলে আসে। সড়কটিতে ‘জলসিঁড়ি’, ‘বন্যা’ ও ‘অনন্যা’ নামে তিনটি পরিবহনের বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। কিন্তু ছয় মাস ধরে সড়কটির এই বেহালে যাত্রীরা এ পথে চলাচল কমিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন বাসের মালিকরা। লোকসানে তাঁরা বাস চলাচল কমিয়ে দেন। পরে বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করে দেয় ‘অনন্যা’ ও ‘বন্যা’ পরিবহন। এখন শুধু ‘জলসিঁড়ি’ই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

এলাকাবাসী জানায়, সড়কের আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ইজি বাইক উল্টে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। সড়ক বেহালের কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়াও আদায় করে পরিবহনগুলো।

নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, ‘নান্দাইল থেকে হোসেনপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে। এর মধ্যে দুটি বাজারের (জামতলা ও শিয়ালধরা) অংশ আরসিসি (রড-সিমেন্ট-কংক্রিটের ঢালাই) করা হবে। আশা করি, আগামী অর্থবছরে সেটি বাস্তবায়িত হবে। আর খানাখন্দের জায়গায় সাময়িকভাবে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত