প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিয়মের অনিয়ম কখনও উদাহরণ হতে পারে না

ফাহমিদা নবী : ফাহমিদা নবীজন্মের পর থেকেই বাবা-মা তার সন্তানকে ভালোবাসতেই থাকে শর্তহীন দায়িত্বের রাঙা ঘোড়ায় চড়ে। কবে বড় হবে,কী করবে,কতটা আগলে রাখলে সুন্দর মানসিক বিকাশে বড় হবে,কতটা উজ্জ্বল হবে তার ভবিষ্যৎ? তার শিক্ষা তার পারিবারিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, রীতিনীতিতে একদিন বড় হবে সেই মুখ্য বিষয়টি নিয়ে বাবা মা পরম্পরায় এগিয়ে যেতে থাকে এ বিষয়টি শাশ্বত। প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাই। তবে সন্তানকে নিয়ে নিখুঁত যে ভাবনা, তা সব সময় এক নাও তো হতে পারে! জীবনে সবকিছু খুব নিখুঁত হবে এমন ভাবারও মানে নেই। মানুষ এতো নিখুঁত হতে পারে না, তবে আমাদের পুরো জীবনটাই তো নিজের জন্য নিজের একটা পরীক্ষাপত্র। যে পরীক্ষায় পাস করার জন্য নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টায় ছুটছে মানুষ প্রতিদিন। বাবা-মা এবং সেই প্রিয় সন্তানটিও। মানুষ হিসেবে ভুল করাটাও জীবনেরই অংশ।
আমাদের জীবনে অনেক রকম ভুল হয়ে যায়। ভুল নিয়ে কেউ এগিয়ে চলে,কেউবা ভুলকে শুধরাতে চায়। সেই নিয়মের অভিধানে পুরোপুরি না হোক, সন্তান তার স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মায়ের আদলেই বড় হয়।

বাদ সাধে তখনই যখন সন্তান বড় হয়ে তার নিজস্ব ধারায়, নিজস্ব মতামতে, নিজস্ব একটা বৃত্ত তৈরি করে।

সেই বৃত্তে বহু মানুষের সঙ্গে হয় সখ্যতা, সেই সখ্যতায় কেউ পারিবারিক রীতিনীতির আশ্রয়ে মিশে অন্যকেও চর্চিত মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে পারে, কেউবা বদলে যায়, কোনোটাই আসলে বর্তমান যুগে ঠিক নির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। একদিকে বাবা-মা’র স্বপ্ন আরেকদিকে নিজের স্বপ্ন বা ইচ্ছা, কোনদিক যাবে ইচ্ছামতি মানুষ? মন বড় একরোখা, এক গতিতে চলতে চায় না, তবুও অনুশাসন বলে অর্থবহ যে সামাজিক ধারাবাহিকতা, সেটার বাইরে কেউ আসলে যেতে পারে না। কেউ কেউ যায়, তার সংখ্যা কিংবা তাকে নিয়ে আলোচনা চলে না।

নিয়মের কথা নিয়মের ধারায় মানিয়ে যায়। অনিয়মের গল্প কি আর বেশি দিন চলে? অনিয়ম বা নেতিবাচক ধারা তো কখনও উদাহরণ হতে পারে না। তবু আজ যুগের পরিবর্তনে ভিন্নতা এসেছে বলে কিছু আলোচনা করার মতো পরিবেশ পরিবারের মধ্যে তৈরি করাটা জরুরি। যাতে করে বাবা-মা কিংবা ভাইবোন অথবা খুব নির্ভরতার কারও সঙ্গে কথোপকথনটা জরুরি। সন্তান তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে, সেই স্বাধীনতা বাবা-মায়ের সন্তানকে দিতে হবে। আবার সন্তানেরও মনে রাখতে হবে, বাবা-মা সন্তানের জন্য শুধু ভালোটাই চায়। একটা মধ্যস্থতার দরকার। পরামর্শ করে কাজ করাটাই ভীষণ জরুরি। কারণ, বর্তমান যে যুগে আমরা বাস করছি, সেখানে মূল্যবোধ অনেকাংশেই কমে গেছে, তাই হতাশাও বেড়ে গেছে। ‘চাই’ শব্দটা খুব সহজ লাগে, অথচ ‘চাই’ শব্দটা এত সহজ নয়। তার জন্য কষ্ট করার আছে প্রয়োজন।

বলবার আছে যে কথা, তা হলো ভুলকে ভয় না পেয়ে আলোচনা করো, সমস্যা থাকবেই, সমাধান খোঁজো। সমাধান ছাড়া জীবন পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব নয়। অথচ পাস করতেই আমরা চাই!

তাই অস্থিরতা নয়, বরং নিয়মের মধ্যস্থতায় ভুলকে ভুলে সঠিক পথে আগাও।

কোনও ভুলই চিরস্থায়ী নয়। সেই ভুলকে নিয়ে ভেবে ভেবে নিজের জীবনের ক্ষতি করার কোনও মানে হয় না। দিনশেষে তোমার জীবন তোমারই। ভুলের বোঝাকে খুব বোঝা না মনে করে বরং তুমি কি হতে পারো, কি করতে পারো সে বিষয়কে প্রাধান্য দাও। কারণ, পৃথিবীতে সব মানুষই নিজের পরিবারের কারো মতোই হয়, অন্যের মতো হয় না, সে হয়তো তার বাবা কিংবা মায়ের মতো হয়। সমাজে দায়িত্বকে বড় করে দেখো, দেখবে নিজেরই উন্নতি করছো, আর তা না করলে ভুল তোমাকে ঘুণে ধরা পোকার মতো খেয়ে ফেলবে একদিন। সাময়িক সুখ পেতে পারো কিন্তু স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা রয়েই যাবে, সংসার ধর্মের গল্পটা পাল্টে যাবে। কী দরকার নিজের ক্ষতি করার। ভাবো, আরেকবার ভাবো, তোমাকে দেখে অনেকে তোমার মতো হতে চায়, সেখানে তাকে থমকে যেতে দিও না। তোমার স্বপ্নটা দিনশেষে বাবা-মা তোমার চোখ দিয়ে নিজের চোখে দেখে।

লেখক: সংগীতশিল্পী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত