প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাপ আতঙ্ক রেলওয়ের মার্শাল ইয়ার্ডে!

ডেস্ক রিপোর্ট: লম্বা ঘাস আর আগাছায় ঢেকে গেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মার্শাল ইয়ার্ড। সাপ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চলাচলরত ট্রেন মেরামত ও ওয়াশফিট কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত পরিবহন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে।

আতঙ্ক কাটাতে ‘গ্রামোক্সোন’ ওষুধ পানির সঙ্গে ছিটিয়ে আগাছা দমনের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন দুইজন পেইন্টার ওই ওষুধ ছিটাতে দেখা গেছে। ওষুধ দেওয়ার এক দিনের মধ্যে সবুজ ঘাস শুকিয়ে যায়।

চিফ ইয়ার্ড মাস্টার ওয়াজি উল্ল্যাহ বলেন, দীর্ঘদিন আগাছা পরিষ্কার ও ইয়ার্ড সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় বর্তমানে এটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আগাছা-পরগাছায় ভরে গেছে ইয়ার্ডের রেললাইনগুলো। রাতবিরাতে ট্রেনের কোনো বগি যখন সংযোজন-বিয়োজন করতে হয় তখন ওই জঙ্গলের মধ্যে ঘাস, কাদা, পানি মাড়িয়ে কাজ করতে হয়। এর মধ্যে যদি কাউকে সাপে কাটে, সাপের আনাগোনা বেড়ে যায় তবে উদ্বেগ বাড়ারই কথা। আমরা আগাছা দমন, ইয়ার্ড সংস্কার, জনবল সংকট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।

ইয়ার্ডে ওষুধ ছিটিয়ে আগাছা দমনের উদ্যোগ রেলওয়ের।তিনি জানান, বছর দেড়েকের মধ্যে তিনজনকে সাপে কেটেছে। তারা হলেন শান্টিং স্টাফ মো. শাহ আলম, মো. সেলিম ও মো. কামরুল। এর মধ্যে কামরুলকে সাপে কেটেছে কয়েক সপ্তাহ আগে।

মো. শাহ আলম  বলেন, চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ট্রেন আসার পর সোজা পাঠিয়ে দেওয়া হয় মার্শাল ইয়ার্ডে। এখানে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের লোকজন বগি পরীক্ষা করে যেটি ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করবে সেটি আমরা হুক কেটে খুলে নিয়ে যাই। এরপর আরেকটি বগি এনে জুড়ে দিই। ওই বগি খুঁজতে আমাদের ঘাস ও আগাছার জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে হয়। একাজে দিন রাত সবই সমান।

তিনি বলেন, আমি ২০১৭ সালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। রাত দেড়টায় কর্তব্যরত অবস্থায় সাপ ছোবল মারে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন ছিলাম। এবার সাপের আনাগোনা আরও বেড়েছে। দিনেও ছোটাছুটি করে।

সোহেল সরওয়ারএক দিনে কী পরিমাণ ট্রেন আসে জানতে চাইলে একজন শান্টিং স্টাফ জানান, তিন পালায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করি আমরা। মহানগর গোধূলি, মহানগর এক্সপ্রেস, মেঘনা এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, তূর্ণা এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইল, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, চট্টলাসহ প্রায় সব ট্রেনেই এসেছে মার্শাল ইয়ার্ডে। শুধু সিলেটগামী পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস ও চবি শাটল ট্রেন মার্শাল ইয়ার্ডে আসে না। আন্তঃনগর গাড়িগুলোতে ১৬ থেকে ১৮ বগি থাকে।

বুধবার (৩০ মে) সকালে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. জাহাঙ্গীর আলম মার্শাল ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, মার্শাল ইয়ার্ডটি বড় হওয়ায় আগাছা বেড়ে গেছে। শান্টিং স্টাফরা জানিয়েছেন সাপের উপদ্রব বেড়েছে। তাই ওষুধ ছিটিয়ে আগাছা দমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : বাংলা নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত