প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘হাবিবুল্লাহ ভালো হয়ে গেছে, শুধু গাঁজা সেবন করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রাম। সেখানে চারপাশে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি ও খোলা প্রান্তরের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাসাদোপম একটি বাড়ি। গ্রামের মূল সড়কের পাশে একটি পাকা রাস্তা পেরিয়ে প্রবেশ করতে হয় তিনতলা বাড়িটিতে। এই বাড়ির মালিক কয়েক বছর আগেও ঢাকা সিটি করপোরেশনে সুইপার পদে চাকরি করতেন। এলাকাবাসী ও পুলিশের দাবি, সেই সুইপার হাবিবুল্লাহ ওরফে হবিউল্লাহ এখন প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী।

জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সহযোগিতায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা করে হাবিবুল্লাহ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গড়েছেন অগাধ স্থাবর-অস্থাবর সস্পত্তি। তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর থানায় ছয়টি মাদক মামলা রয়েছে।

সোমবার (২৮ মে) সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মেঝে মার্বেল পাথর দিয়ে গড়া। এছাড়া রয়েছে দামি বিদেশি টাইলস, ঝাড়বাতি, কাঠের দরজায় শৈল্পিক কারুকাজ। ভেতরে বিলাসবহুল সব আসবাবপত্র। বাড়িতে গিয়ে কথা হয় হাবিবুল্লার স্ত্রী রওশনারা ও কয়েকজন গৃহকর্মীর সঙ্গে।

রওশনারা জানান, হাবিউল্লাহ এখন একটি মাদক (ইয়াবা) মামলায় কারাগারে আছে। রওশনারা দাবি করেন, ‘হাবিবুল্লাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। হাবিবুল্লাহ ভালো হয়ে গেছে, শুধু গাঁজা সেবন করে। এজন্য কেজি দরে গাঁজা কিনে আনতো।’

তিনি জানান, হাবিবুল্লাহ সিটি করপোরেশনের সুইপার পদে চাকরি করার সময় পরিবার নিয়ে থাকতো গাজীপুরের টঙ্গী ও সাভারের আশুলিয়া এলাকায়। সুইপার থাকার সময় যা কামাই-রোজগার করতো তা দিয়েই তার স্বামী জমি কিনেছিলেন এবং তা বিক্রি করে এখন চলছে তাদের সংসার। স্বামী জেলে থাকায় তাদের সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

ওই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুল্লার ছিল ওপর মহলের সঙ্গে চলাফেরা। তার সব অপকর্মের কাজে সহযোগিতা করতো সরকারদলীয় একাধিক নেতা। যে কারণে হাবিবুল্লাহ এলাকার কাউকে তোয়াক্কা করতো না।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সরকার জানান, ‘পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আমরা জানতে পেরেছি হাবিবুল্লাহ একজন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুল্লার আসল বাড়ি গাজীপুর জেলায়। এখানে ৬-৭ বছর আগে জায়গা কিনে বিশাল বাড়ি করেছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মানিকগঞ্জ শাখার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, ‘জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাবিবুল্লাহ ওরফে হবিউল্লাহ অন্যতম। তার অট্টালিকার মতো বাড়িটি মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকা দিয়ে তৈরি করা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে দায়ের করা তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে একাধিক মামলা রয়েছে।’

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি (ডিএসবি) হামিদুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ‘শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ তিন কেজি গাঁজাসহ আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জে তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে।’ হাবিবুল্লাহ বাইরে থেকে মাদকের চালান এনে মানিকগঞ্জে ব্যবসা করতো বলেও জানান তিনি।

সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, ‘আমরা হাবিবুল্লাহকে ধরার পর রিমান্ডের আবেদন করি। কিন্তু রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না হওয়ায় তার কাছ থেকে গডফাদার ও সঙ্গী-সাথীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদায় করা সম্ভব হয়নি।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ