প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেকনাফ বিএনপির অধিকাংশই ইয়াবা ব্যবসায়ী!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ইয়াবা ট্রানজিট পয়েন্ট টেকনাফ। সেখানকার স্থানীয় বিএনপির টপ-টু-বটম পুরোটাই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবার ব্যবসা করে গত পাঁচবছরে টেকনাফের বিএনপি, যুবদল ছাত্রদল নেতারা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মালিক। সরকারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছে টেকনাফে বিএনপির অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিদের নাম। ২০১৪ সাল থেকে সরকারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যেই তালিকায় আওয়ামী লীগের এমপি বদি সহ বিভিন্ন নেতা ও জনপ্রতিনিদিদের নাম আছে সেই তালিকায় রয়েছে বিএনপি নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নামও।

বিগত পাঁচ বছর দলটির নেতারা নিরবে ইয়াবা ব্যবসা করে গেলেও তারা রয়েছেন সম্পূর্ণ আলোচনার বাইরে। সারা দেশে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে টেকনাফের আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ঝড় উঠলেও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে বিএনপি নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম।
সরকারের ইয়াবা বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় রয়েছে টেকনাফ বিএনপির সভাপতি জাফর আলমের নাম। তার বাড়ি টেকনাফের হ্নীলার পূর্ব লেদায়। সরকারি সংস্থার তথ্য মতে জাফর আলমের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। সে তার বাহিনী দিয়ে নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা এনে সারা দেশে পাচার করে।

দেশের সবচেয়ে বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট হলো টেকনাফ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর। ইয়াবা ব্যবসা করে তার পরিবারের সদস্যরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। আবদুল্লাহর বোনের জামাই দেশের ১ নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার ডাঃ হানিফের পুত্র হাজী সাইফুল করিম।

টেকনাফ বিএনপির সবচেয়ে প্রভাবশালী এই নেতার ভাই জিয়াউর রহমান (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন নির্বাচনে ধানের শীর্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলো) ও আবদুর রহমান তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা দুই ভাই একাদিক ইয়াবা মামলার আসামি। তাদের বাড়ি থেকে কিছুদিন আগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছিলো পুলিশ।

আবদুল্লাহর চার বেয়াই রেজাউল করিম, রফিকুল করিম, মাহাবুবুল করিম ও আরশাদুল করিমও দেশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী।
বিএনপি নেতা আবদুল্লাহর তিন ঘনিষ্ট মনির উল্লাহ (২৭), পিতা- জাকির হোসেন (আব্দুর রহমানের সহযোগী) , সাং- গোদারবিল, টেকনাফ সদর, টেকনাফ। সাকের (৩৯), পিতা- মৃত, মকবুল আহমদ প্র:পুতু, সাং- গোদারবিল, টেকনাফ সদর, টেকনাফ ও দিল মো: দিলু (৩০), পিতা- মৃত, মকবুল আহমদ প্র:পুতুু, সাং- গোদারবিল, টেকনাফ সদর, টেকনাফ তালিকাভূক্ত ইয়াবা পাচারকারী।

টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি রাজ্জাক মেম্বার পুরো পরিবারও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তার ছেলে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২১ লাখ টাকার ৭০ পিস ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিলো। রাজ্জাক মেম্বারের আরো দুই ছেলে মো. আবদুল্লাহ ও মো. ফারুকও তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।

টেকনাফ উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আমিন আবুল একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ঢাকায় আটক হয়েছিলো সে।

টেকনাফ সদর বিএনপির সভাপতি আলম মেম্বার। তার পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। আলম মেম্বারের ছোট ভাই শামসু আলম কালু ৭ লাখ ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে ১০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে সাজাভোগ করছে।

টেকনাফ বিএনপি নেতা হামিদ হোসেন (৫৫), পিতা- মৃত, মাষ্টার মো: হোসেন (হোটেল ‘স্কাই ভিউ’-র মালিক), সাং- হাতিয়ারঘোনা, টেকনাফ সদর তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।

ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় হামিদ হোসেনে তিন ছেলে আহমদ হোসেন (৩৭), কামাল হোসেন (৩৪) ও জাকির হোসেন (৩২) এর নামও রয়েছে।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়র পরিষদের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা শাহপরীর দ্বীপের মো. ইসমাইল মেম্বারের নামও আছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়।

টেকনাফ পৌরসভার মধ্যম জালিয়াপাড়া যুবদলে আহবায়ক আবদুল্লাহ (৩৫) এর তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বাবা নাম আবু তাহের। ইয়াবা ব্যবসা করে সে কোটি কোটি টাকার মালিক।

টেকনাফ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা হাসান আলীর ছেলে বিএনপির নেতা রাশেদুল করিম মার্কিন (৩৭), সাবরাং একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী।

টেকনাফ বিএনপি নেতা ও হ্নীলা ইউপি সদস্য শামসুল আলম বাবুল (৩৮), হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জিয়াউল বশির শাহীন (২৫) তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।

টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পদক নুরুল হুদা, তার বাবার নাম মেীলভী রুস্তম আলী, তার ঠিকানা পশ্চিম সিকদারপাড়া, হ্নীলা, টেকনাফের সে একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। সরকারি সংস্থার তথ্যমতে এই ছাত্রদল নেতা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।
সরকারি তালিকা অনুযায়ী দেশের অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারী হলো হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবদল নেতা মো: আলী (৩৩)। সে কক্সবাজার জেলা যুবদলের নেতা। ইয়াবা ব্যবসা করে সে এখন শতকোটি টাকার মালিক।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা রাকিব আহমদ (৪১) একজন তালিকা ভূক্ত ইয়াবা পাচারকারী। এইসব সিনিয়র নেতা ও জনপ্রতিনিধি ছাড়াও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তারিকায় রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছেন, টেকনাফের অনেক বিএনপি নেতাই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। বিএনপি নেতাদের শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। এই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযান চলছে। অভিযানের ফলে অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। সূত্র : পরিবর্তন.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত