প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতারা আত্মগোপনে, পালিত হয়নি জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক রিপোর্ট : টেকনাফে পালিত হয়নি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। টেকনাফে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল শ্রমিকদলসহ কোন সংগঠনই দলটির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেনি।

টেকনাফে বিএনপির অধিকাংশ নেতারা ইয়াবার ব্যবসায়ী হওয়া তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় কেউ দলের প্রতিষ্ঠার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেনি।

টেকনাফ বিএনপির উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো. হাসান ড্রাইভার জানান, কয়েকদিন ধরে টেকনাফে বিএনপি নেতাদের কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। নেতারা না থাকায় টেকনাফের কোথাও জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়নি।
সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ইয়াবা ব্যাবসায়ীর তালিকায় রয়েছে টেকনাফ বিএনপির সভাপতি জাফর আলম, টেকনাফ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর নাম।

আবদুল্লাহর ভগ্নিপতি দেশের ১ নম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার ডা. হানিফের ছেলে হাজী সাইফুল করিম। আবদুল্লার ভাই ও উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন নির্বাচনে ধানের শীর্ষের চেয়ারম্যন প্রার্থী ছিল) ও আবদুর রহমান তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।

আবদুল্লাহর চার বেয়াই রেজাউল করিম, রফিকুল করিম, মাহাবুবুল করিম ও আরশাদুল করিমও দেশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। বিএনপি নেতা আবদুল্লাহর ঘনিষ্ট বিএনপি নেতা মনির উল্লাহ (২৭), সাকের (৩৯) ও দিল মোহাম্মদ দিলু (৩০) তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি রাজ্জাক মেম্বারের পুরো পরিবারও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ছেলে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২১ লাখ টাকার মূল্যের ৭০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল।

রাজ্জাক মেম্বারের আরও দুই ছেলে মো. আবদুল্লাহ ও মো. ফারুকও তালিকা ভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল আমিন আবুল একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ঢাকায় আটক হয়েছিলেন তিনি। টেকনাফ সদর বিএনপির সভাপতি আলম মেম্বারের পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। আলম মেম্বারের ছোট ভাই শামসু আলম কালু সাত লাখ ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
টেকনাফ বিএনপি নেতা হামিদ হোসেন (৫৫), পিতা- মৃত মাস্টার মো. হোসেন (হোটেল স্কাই ভিউর মালিক), সাং- হাতিয়ারঘোনা, টেকনাফ সদর তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় হামিদ হোসেনে তিন ছেলে আহমদ হোসেন (৩৭), কামাল হোসেন (৩৪) ও জাকির হোসেনের (৩২) নামও রয়েছে।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়র পরিষদের সাবেক মেম্বার ও জেলা বিএনপি নেতা শাহপরীর দ্বীপের মো. ইসমাইল মেম্বারের নামও আছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়। টেকনাফ পৌর যুবদলে আহবায়ক আবদুল্লাহ (৩৫), পিতা- আবু তাহের, সাং- মধ্যম জালিয়াপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসা করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক।
টেকনাফ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির নেতা রাশেদুল করিম মার্কিন (৩৭), পিতা- হাসান আলী, সাং- বাহারছড়া, সাবরাং একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী।

টেকনাফ বিএনপি নেতা ও হ্নীলা ইউপি সদস্য শামসুল আলম বাবুল (৩৮), হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জিয়াউল বশির শাহীন (২৫) তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পদক নুরুল হুদা, পিতা- মেীলভী রুস্তম আলী, সাং- পশ্চিম সিকদারপাড়া, হ্নীলা, টেকনাফ একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী।

সরকারি সংস্থার তথ্য মতে এই ছাত্রদল নেতা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। সরকারি তালিকা অনুযায়ী দেশের অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারী হলেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবদল নেতা মো. আলী (৩৩)। তিনি কক্সবাজার জেলা যুবদলের নেতা। ইয়াবা ব্যবসা করে তিনি এখন শতকোটি টাকার মালিক। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা রাকিব আহমদ (৪১) একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী। এসব সিনিয়র নেতা ও জনপ্রতিনিধি ছাড়াও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছেন। সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত