প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাংসের উচ্চমূল্যই কারণ
জাপানি তিমি শিকারীদের হাতে কমপক্ষে ১২০ গর্ভবতী মিঙ্ক তিমির মৃত্যু!

আসিফুজ্জামান পৃথিল: জাপানের বাৎসরিক ‘গবেষণামূলক’ তিমি শিকারের সময় শিকারীরা অন্ততপক্ষে ১২০টি মিঙ্ক প্রজাতির গর্ভবতী তিমিকে হত্যা করেছে। গত গ্রীষ্মে দক্ষিণ মহাসাগরে এই ঘটনা ঘটে। একটি নতুন গবেষণা প্রবন্ধে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

বহুল সমালোচিত ১২ সপ্তাহের এই শিকার অভিযানে মোট ৩৩৩টি মিঙ্ক প্রজাতির তিমিকে ধরা হয়। এর মধ্যে ১৮১টি মাদী তিমি। এই মাদী তিমির মধ্যে ৫৩টিই ছিল নাবালিকা। আর সাবালিকা ১২৮টি তিমির মধ্যে ১২২টিই ছিল গর্ভবতী! আন্তর্জাতিক তিমি কমিশনে জমা দেয়া একটি গ্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘মৃত তিমিগুলোর মধ্যে ৯৫.৩ শতাংশ গর্ভবতী ছিল। তবে কাউকে স্তন্যপানরত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।’

তিমি সংরক্ষণকর্মীরা এই ঘটনাটিকে জঘন্য তিমি হত্যার দৃষ্টান্তপূর্ণ উদাহরণ বলে চিহ্নিত করছে। তবে জাপান এই শিকার কার্যক্রমকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ বলে মনে করে। হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এর জেষ্ঠ্য প্রোগ্রাম ম্যানেজার অ্যালেক্সিয়া ওয়েলবেলভ একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘১২২ টি গর্ভবতী তিমিকে হত্যা করা একটি ধাক্কা খাবার মতো পরিসংখ্যান। এটি জাপানের বিভৎস তিমি শিকারের একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। এভাবে গবেষণার নামে তিমি হত্যার কোন মানেই নেই। হত্যা না করেও গবেষণার অনেক প্রমাণিত উপায় রয়েছে।’

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালত দক্ষিণ মহাসাগরে তিমি হত্যার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়। জার্পা টু নামে পরিচিত জাপানের বাৎসরিক তিমি শিকার অভিযান কোন গবেষণার জন্য পরিচালিত হচ্ছেনা, এই প্রমাণ পাবার পর এই রায় দেয়া হয়। তবে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে জাপান এখনও তাদের শিকার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর বদলে তারা শিকারের পরিমান তিন ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটিতে তিমির তেল এবং মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুগন্ধি সামগ্রী হিসেবে তিমির তেলের চাহিদা ব্যাপক। জাপানে তিমির মাংস খাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। এক কেজি মাংসের দাম কমপক্ষে ২০০ ডলার। – দ্য গার্ডিয়ান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত