প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বাড়লে ২০২৫ সালে ভারতের জিডিপি বাড়বে ৫১.৫০ লক্ষ কোটি রুপি।

লিহান লিমা: সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ভারতে, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার মত জঘন্য অপরাধ বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। কাশ্মীরে ৮ বছরের শিশু আসিফা, গুজরাটে ১১ বছরের কন্যা এবং উত্তর প্রদেশে ১৬ বছরের কিশোরি ধর্ষণ ভারতজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতারই ইঙ্গিত দেয়। আইপ্রণেতারা বললেন, এই ধরনের অপরাধের শাস্তি আরো কঠোর করা হচ্ছে। তবে অনেক সাক্ষাৎকার নিয়ে জানা গিয়েছে, নিজের নিরাপত্তা, সন্তানদের সুরক্ষার কারণে অনেক নারী কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করছেন বা সুবিধামত নিন্ম আয়ের চাকরি নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে , ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের ২ কোটি নারী কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছে।

নয়া দিল্লীর মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ শ্বাতী মালহোত্রা ‘টেজার’ ( ইলেকট্রিক স্টানগান) ও পেপার স্পে ছাড়া ঘর থেকে বের হন না। মালহোত্রার বেতনের অর্ধেকই গাড়ি ও ড্রাইভারের বেতনের চলে যায়। কারণ তিনি হয়রানির ভয়ে গণ-পরিবহন এড়িয়ে চলেন।

ব্যাঙ্গালুরুর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নির্বাহী বিদ্যা লক্ষণ তার শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে সিসি ক্যামেরা ও কয়েকজন গৃহকর্মী রেখেছেন। ইন্দু ভান্ডারি নিজের কন্যার নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ৩ বছর বয়সে গৃহকর্মী ও ৬ বছর বয়সে বাবার কলিগের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। তাই সন্তানের বেড়ে ওঠা আমাকে ভাবায়।
ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের মতে, ভারতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি ও লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধি পেলে ২০২৫ সালে ভারতের জাতীয় জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ৫১.৫০ লক্ষ কোটি রুপি। ইন্ডিয়াস্পেন্ড জানায়, ‘মাত্র ২৭ ভাগ ভারতীয় নারী কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত, যা জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিন্ম হার। এই হার সৌদি আরবের চেয়ে কিছুটা ভাল।’ ভারতের সরকারী হিসেব মতে, ‘২০০৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত নারীর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার হার ৮৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।’

নয়া দিল্লীর জেবার (২৫) পরিবার বাড়ির কাছাকাছি একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর তাকে আর নার্সিং স্কুলে যেতে দেয় নি। জেবা বলেন, ‘যদি আমি পুরুষ হতাম তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হত।’ অর্থনীতিবিদ অঞ্জলি ভর্মা বলেন, নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে অবশ্যই কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বৃদ্ধিসহ চাকরি ছাড়ার হার কমবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত