প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্পেন এবার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী – বললেন কােচ

স্পাের্টস ডেস্ক : দু’ছর দায়িত্ব নিয়েছেন। এখনও হারের স্বাদ পাননি। রিয়েল মাদ্রিদ ও বার্সিলোনার হয়ে খেলা এই গোলকিপার তখন সেভাবে সুযোগ না পেলেও দেল বস্কের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর দারুণভাবে তৈরি করছেন দলকে। কীভাবে, সেটাই জানাচ্ছেন জুলেন লোপেতেগুই।

২০১৪ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই বিদায়। ২০১৬ ইউরোয় দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায়। স্পেন কি রাশিয়ায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

লোপোতেগুই: হ্যাঁ অবশ্যই। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। না পারার কোনও কারণ নেই। আমাদের দলটা খুব ভাল। সবাই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য উৎসুক। প্রস্তুতিও খুব ভালভাবেই হচ্ছে। খুব বেশি চোট–আঘাত সমস্যা নেই। স্পেন এবার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

আগের দুটো প্রতিযোগিতায় কোথায় সমস্যা হয়েছিল?

লোপোতেগুই: আমি তো কোচ ছিলাম না। তাই এটা নিয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।

২০১৬ সালে ভিসেন্টে দেল বস্কের থেকে আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পেন টানা ১৮ ম্যাচে অপরাজিত। তার মধ্যে ১৩টায় আপনারা জিতেছেন। এই ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য কী?

লোপোতেগুই: সাধারণত স্পেন একসঙ্গে এত ম্যাচ হারে না। আমরা ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলো খেলেছি। তার মাঝে কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলেছি। পরিসংখ্যানই বলছে আমরা ভাল খেলেছি। কয়েকটা বড় ম্যাচ ছিল। কোয়ালিফায়ারে ইতালি আমাদের গ্রুপে ছিল। ওরা মূলপর্বে উঠতে না পারায় খারাপ লাগছে।

স্পেন যখন ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল, সেই দলে বার্সিলোনার ৬–৭ জন ছিল। ৮ বছর পরে এবার রিয়েল মাদ্রিদের ফুটবলার বেশি। এটা কি আরেকটা পরিবর্তন?

লোপোতেগুই: যারা ২০১০ সালে খেলেছিল, তারা স্পেনের হয়ে খেলেছিল। আর এবারও প্লেয়াররা স্পেনের হয়েই খেলবে। জাতীয় দল নির্বাচনের সময় ক্লাবের কথা আমি ভাবি না। যারাই ভাল খেলবে, সে যে ক্লাবেরই হোক না কেন, তাদের দেশের হয়ে সুযোগ পাওয়া উচিত। ২০১০ সালে রিয়েল থেকে ক্যাসিয়াস, র‌্যামোস, জাবিরা ছিল। এরাও জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেটসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ভাল প্লেয়ার দরকার। একটা ক্লাব থেকে ক’জন ফুটবলার দলে থাকল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কিন্তু একটা ক্লাব থেকে বেশি ফুটবলার থাকলে জাতীয় দলেরও সুবিধা হয়। তাই নয় কি?

লোপোতেগুই: হ্যাঁ। কিন্তু সেটাই দল বাছার একমাত্র শর্ত নয়। ফুটবলারদের মান যাচাই করে দল বাছতে হয়। সে কোনও জায়গায় খেলে, খেলার ধরন, টেকনিক, ফর্ম এগুলো দেখতে হয়। যেহেতু আমাদের দেশে অত্যন্ত উচ্চমানের একটা লিগ আছে, এবং বেশিরভাগ ফুটবলারই এই দুই বড় ক্লাবে খেলে, তাই জাতীয় দলের অধিকাংশ ফুটবলারই এই দুই ক্লাবের হবে, সেটাই স্বাভাবিক।

আপনার দলে এমন কয়েকজন আছেন, যাঁরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন।

লোপোতেগুই: এটাও আরেকটা বড় লিগ। স্প্যানিশ ফুটবলাররাও এখন এই লিগে খেলছে। নিজেদের ক্লাবের হয়ে পারফরমেন্সই তাদের জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে।

২০১০ সালেও কিন্তু গোল করার ক্ষেত্রে স্পেনের সমস্যা ছিল। ৭টা ম্যাচে মাত্র ৮ গোল করেছিল স্পেন।

লোপোতেগুই: গত দু’বছরে যদি আমাদের পারফরমেন্স দেখেন, তাহলে দেখবেন আমাদের গোলপার্থক্য (গোল করা এবং গোল খাওয়ার তফাত) ৪৫–এর ওপর। গত ১৮ মাসে আমরা প্রায় ৬০টা গোল করেছি। ম্যাচ–পিছু গড় গোল ৩–এরও বেশি। এটা যে কোনও দলের পক্ষেই দারুণ ব্যাপার। এমনিতে ভাল দল ম্যাচ–পিছু ২টো করে গোল করে। তাই আমরা এই পারফরমেন্স নিয়ে খুশি। আর সব থেকে বড় কথা ম্যাচ জিততে গেলে বিপক্ষের থেকে একটা গোল বেশি করতে হবে। ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন খুব কম গোল খেয়েছিল। মাত্র ২টো গোল খেয়ে ৮ গোল করেছিল।

আপনাদের প্রথম ম্যাচ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে।

লোপোতেগুই: প্রথমত রোনালদো সব দিক থেকেই কিংবদন্তি। যেখানে খেলেছে, ক্লাবের হয়ে অসাধারণ সব কীর্তি তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের ইউরো চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। কিন্তু এটা একের বিরুদ্ধে একের লড়াই নয়। দল হিসেবে কেমন খেলছে, সেটাই সব থেকে বড় ব্যাপার। রোনালদোর মতো ব্যক্তিগত প্রতিভা নিমেষের মধ্যে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। তার জন্য কেউ প্রস্তুত থাকতে পারে না। কিন্তু নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বিচার করে তৈরি হতে হবে। এটা রোনালদো বনাম স্পেন লড়াই নয়, রোনালদো বনাম রামোস লড়াইও নয়। লড়াইটা স্পেন বনাম পর্তুগালের। বিশ্বকাপের আসরে এই ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকতে চলেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত