প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিজড়াদের স্ববিরোধী জীবন

আদম মালেক : নিজস্ব স্বত্ত¡া নিয়ে বাঁচতে চায় হিজড়ারা। স্বীয় পরিচয়েই তাদের আনন্দ। কিন্তু তাদের প্রতি সামজের চাহনি ব্যাঙ্গাত্মক অসম্মান অসযোগিতা আর অবহেলার। আইনি স্বীকৃতি থাকলেও নেই সামাজিক স্বীকৃতি। এখনও তারা অপাংতেয়। কোথাও মেশার সুযোগ নেই। তাই নিজের পরিচয় গোপন করেই তাদের চলতে হয়। পরিচয় প্রকাশ পেলে সমাজচ্যূত হওয়ার আশংকা থাকে। আবার কেউ পোষাক পরিচ্ছদে পুরুষ হলেও চিন্তা চেতনায় নারী। আকাঙ্খায় পুরুষের সাহচর্য। মুখ ফুটে বলতে পারে না। অনেকের সারা জীবনের আকাঙ্খা অতৃপ্তই থেকে যায়। কেউ কেউ অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে নারী লিঙ্গ ধারণ করে। সংসারী হয়। কিন্তু রুপান্তিরিত নারীটি পুরুষ হয়ে মরতে চায়। মৃত্যুর পর তার পুরুষ হিসেবে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা। অনুসন্ধানে এভাবে অনেক স্ববিরোধী জীবন যাপনের চিত্র বেরিয়ে আসে।

সাথী হিজড়া। বর্তমানে ঢাকায়। ৭/৮ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে হিজড়াদের সঙ্গে দলবদ্ধ জীবন যাপন করেন। ভারতে অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে নারী লিঙ্গ ধারণ করেন। এজন্য তাকে লাখ টাকা গুনতে হয়। শাড়ি পরেন। নারীসুলভ অঙ্গভঙ্গি। একজনের সঙ্গে প্রেম করেন। বিয়ের স্বপ্নও আছে। প্রেমিক একজন ইউপি চেয়ারম্যান। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে। সাথি নারী হিসেবে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে চাইলেও মৃত্যুর পর পুরুষের মতোই সমাহিত হতে চান। তিনি বলেন,আমিতো ছেলে হয়ে জন্মেছি। তাই ছেলে হয়েই মরতে চাই।

রিদয় হিজড়া ঢাকার বাসিন্দা। বয়স ছাব্বিশ বছর। বাবা মায়ের সঙ্গে থাকেন। তার পরিবার তাকে নিয়ে সমস্যায় আছে। ছেলেদের রীতি মেনেই চলাফেরা করেন। মাঝেমধ্যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। রাস্তায় অনেক সময় মনের অজান্তেই শরীর হেলেদুলে চলে। এতে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে বিব্রতবোধ করে। তিনি বলেন,আমি পুরুষের মতো চলাফেরা করি। কিন্তু আমার অন্তরে বাস করে নারী। আমিতো চাই পুরুষের আদর-ছোঁয়া। কাউকে বলতে পারি না। কেউ একবার কাছে আসলে বেশী দিন থাকে না। সারাজীবনের জন্য কেউ নিতে আসে না।

জীবনের প্রতি পদে পদে তারা বঞ্চিত। তাদের জন্য আজও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। দৈবাৎ কারো লেখাপড়া হয়ে উঠলেও চাকরি জোটে না। উপেক্ষিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। এজন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বসবাস। নেই চিকিৎসা সুবিধা। সরকারী হাসপাতালেও তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। সরেজমিনে হিজরা পল্লি ঘুরে দেখা মেলে কমল , সপনা ও বাাঁধনসহ কয়েকজন হিজরার সঙ্গে। তারা বলেন, ‘হাতে পায়ে ধইরা আমাগো ডাক্তারদের দেখাইতে হয়।

শুধু খেয়ে পরে বেঁচে থাকা নয়। একজন উন্নত মানুষের মতো বাঁচতে চান হিজড়ারা। তাদের অনেকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রাজনীতি ও সরকার নিয়েও ভাবেন। সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চান। এমনই একজন হিজড়া,তাঁর নাম পাহাড়ি। থাকেন ফকিরাপুল ১নম্বর গলিতে। এ মানুষটি নিরক্ষর নন। কুমিল্লার কসবা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনসহ সভা সেমিনার ও টিভি-টকশোতে হিজড়াঝদের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময় সরব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত