প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমতলী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

মো. জয়নুল আবেদীন,আমতলী (বরগুনা): বরগুনার আমতলী উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার মো. মাসুম’র বিরুদ্ধে লাখে দেড় হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলিল রেজিষ্ট্রিতে চাহিদামত টাকা না পেলে দলিলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। আমতলী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশিদসহ ৪১ জন দলিল লেখক ও শহীদুল মীর মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন বরাবরে আবেদন করেছেন। সাব রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলার সাত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানরা ওই আবেদনে সুপারিশ করেছেন। আমতলী সাব রেজিস্ট্রার মো. মাসুম তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত বছর ১৭ ডিসেম্বর মো. মাসুম উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আমতলীতে যোগদান করেন। আমতলীতে যোগদানের পরে সকল দলিল লেখকদের ডেকে দেড় পাসেন্ট ( লাখে দেড় হাজার) টাকা তাকে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু দলিল লেখক সমিতির লোকজন এ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তিনি। পরে সাব- রেজিস্ট্রার মো. মাসুম তার চাহিদামত টাকা আদায়ের জন্য দলিল রেজিস্ট্রির জন্য পেশকার মিজানের মাধ্যমে কাগজপত্র দেখানোর নামে টাকা আদায় করেন। এ টাকা না দিলে পেশকার মিজান দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান না। চাহিদামত টাকা পেলে মিজান দলিল রেজিস্ট্রির জন্য পাঠিয়ে দেয়।

গত ৫ মাস ধরে এ ধারা অব্যহত থাকায় দলিল লেখকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লাখে দেড় হাজার টাকা বিষয়টি এখন আমতলীতে ওপেন সিক্রেট। সর্ব মহলের লোকজন জানে সাব-রেজিস্ট্রার মাসুম সাহেবকে লাখে দেড় হাজার টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। পেশকার মিজানের সহযোগীতায় আমতলী সাব- রেজিস্ট্রার অফিস ঘুষের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ৯৪১ নং দলিল দাতা এমদাদ হোসেন তালুকদার ও হোসনে আরা খানম দলিল রেজিস্ট্রির জন্য দলিলের সকল কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্তে¡ও সাব-রেজিস্ট্রার মো. মাসুম তার চাহিদামত টাকা না পাওয়ায় দলিল রেজিস্ট্রি করেনি। দলিলখানা রেজিস্ট্রি না করিয়া টালবাহানা করতে থাকেন। পরে উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপে ১৫ দিন পরে দলিল খানা রেজিস্ট্রি হয়। সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে দেড় পাসেন্টের টাকার জন্য দলিল লেখক, সাব- রেজিস্ট্রার ও পেশকার মিজানের সাথে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। এছাড়া সাব- রেজিস্ট্রার মো. মাসুম তালতলীর রাখাইনদের এ্যানিমি প্রপাটির দলিল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জাল দলিল রেজিস্ট্রি করে থাকেন সাব-রেজিস্ট্রার ও তার সহযোগী পেশকার মিজান। সাব রেজিস্ট্রার মো. মাসুম ও পেশকার মিজানের এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে গত ১৮ মার্চ আমতলী দলিল লেখক সমিতির ৪১ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

আমতলী দলিল লেখক মো. মাহবুব আলম ও জহিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সাব- রেজিস্ট্রার মো. মাসুমকে লাখে দেড় হাজার টাকা ঘুষ না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। তিনি আরও বলেন কাগজপত্র দেখানোর নামে পেশকার মিজান এ টাকা আদায় করছে।

আমতলী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, সাব রেজিস্ট্রার মো. মাসুম আমতলীতে যোগদানের পরেই অফিসটাকে ঘুষের আখড়ায় পরিনত করেছে। লাখে দেড় হাজার টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। টাকা দিলে কাগজপত্র যাছাই বাছাই ছাড়াই দ্রুত দলিল রেজিস্ট্রি করেন। তালতলীর রাখাইনদের এ্যানিমি প্রপার্টির জমি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। তিনি আরও বলেন, চাহিদামত টাকা না পেলে দলিলের কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে দলিল লেখকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন থাকেন।

আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এমন দুর্ণীতিবাজ অফিসার আসেনি। সাব- রেজিস্ট্রি অফিসটাকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছে। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ সাব- রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন দুর্ণীতিবাজ ও ঘুষখোর এ সাব রেজিস্ট্রারকে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় এনে আমতলী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

আমতলী সাব- রেজিস্ট্রার মো. মাসুম তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাল জালিয়াতি বন্ধ করতে গিয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত