প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাশরাফি কোনো দলের নয়, ষোল কোটি মানুষের

সাইদুল ইসলাম, লন্ডনঃ ইতিহাস সাক্ষী দেয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন অঞ্চলে শত বছর পর পর একেকজন মহাপুরুষের আগমন ঘটে। মহান কাজের মাধ্যমে এ সকল মহাপুরুষরা ইতিহাসে মহান অধ্যায়ের রচনা করেন।  নিজেদের প্রজ্ঞা, ধ্যান ধারনা ত্যাগ তিথীক্ষা, অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, অধ্যাবসায় আর পরিশ্রমের বদৌলতে তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে মুদ্রিত হয়। এর ব্যতিক্রম নয় আমাদের বদ্বীপ প্রিয় বাংলাদেশ। কালের বিবর্তনে এবং সময়ের প্রয়োজনে এ অঞ্চলেও জন্মেছেন কালজয়ী  অনেক মহাপুরুষ। নিজেদের মহান ব্যাক্তিত্বগুনে  আজ তিনিরা আমাদের অনুকরণীয়, অনুস্মরনীয়।
মাস ছয়েক আগেও আমি আমার কাছের মানুষদের সাথে বাংলাদেশের কিংবদন্তী ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তজাকে নিয়ে বেশ উচ্ছসিত কথা বলেছি, এখনও বলি। কারণ, আমার চোখে মাশরাফি-ই এ যুগের মহাপুরুষ। তিনি শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক নন। দেশের আপামর ষোল কোটি ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের অবিসংবাদীত নেতা। রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ক্রিকেটের বেলায় সবাই একাট্টা। ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মাসরাফি পুরো বাংলাদেশকে বেঁধেছেন একই সুতোয়। তাঁর নেতৃত্বে মাঠের ভেতরে ১১ জন খেলোয়াড় খেললেও ষোল কোটি দর্শকের বত্রিশ কোটি চোখ তাঁর নেতৃত্বেই ভরাসা রাখে। খেলায় হার-জিত নিয়ে সমালোচনা থাকলেও মাশরাফির নেতৃত্ব নিয়ে মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরে আজ পর্যন্ত কেউ টু শব্দ পর্যন্ত করেনি। তাঁর নেতৃত্বে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের জয়জয়কার। নিকট অতীতেও যেখানে কেউ বাংলাদেশকে পাত্তা দিত না মাশরাফি ক্রিকেট নেতৃত্বে আসার পর আজ সবাই সমীহ করে চলে। দেশের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা, সম্মান, আত্মবিশ্বাস আর ত্যাগের মাধ্যমেই আজ তিনি কিংবদন্তী  মহানায়ক।
 
কিছু দিন আগেও যারা ক্রিকেট খেলা বুঝতো না  আজ তারাই মাশরাফির নেতৃত্বে খেলা দেখার জন্য টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা। প্রবাসীরা বাংলাদেশের খেলার দিন অগ্রিম ছুটি নিয়ে দেখেন ম্যাশ বাহিনীর তর্জন-গর্জন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন খেলায় মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশকে জেতানের জন্য গ্যালারীর ভেতরে কিংবা বাইরে হাজার হাজার মা,চাচী,দাদী,নানী, মসজিদের মোয়াজ্বিন থেকে ইমাম, মন্দীরের পুরোহিত কিংবা গীর্জার পাদ্রী প্রার্থনা করেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বৃদ্ধ আবাল বনিতা থেকে শুরু করে সব বয়সী সব লিঙ্গের মানুষের মনে যে আবেগ মাশরাফি তৈরি করেছেন, তা বঙ্গবন্ধুর পর আর কেউ পারেননি। মাশরাফি শুধু একজন খেলোয়াড় বা ক্রিকেটার নন,তিনি আপাদমস্তক একজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতা। তিনি ষোল কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন এবং এ যুগের মহাপুরুষ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ যেভাবে দেশের জাতীয় অনেক কিছু সার্বজনীনতা থেকে এক ধরনের জোর করে আওয়ামীলীগীকরন করেছে, ঠিক একই কায়দায় প্রিয় মাশরাফি বিন মোর্তজাকেও ছিনতাই করার চেষ্টা করছে। ষোল কোটি মানুষের নেতাকে একটি দলের করে নেওয়ার পায়তারা করছে।
প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার স্বাধীনতা এবং অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে ভাল মানুষের রাজনীতিতে আজ বড় প্রয়োজন। প্রিয় কিংবদন্তী মাশরাফি যদি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে আসার ইচ্চা থাকে, তবে আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপির হয়ে কেন? মাশরাফির মত ব্যাক্তির কি গতানুগতিক রাজনীতিতে একজন এমপি হওয়ার খুবই প্রয়োজন? ব্যাক্তি মাশরাফির অবস্থান তো এমনিই বহু এমপি-মন্ত্রীর উর্দ্বে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মুক্তির আকাঙ্খায় যখন মুখিয়ে আছে দেশের জনগন, তখন মাশরাফিই হতে পারেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মুক্তির অগ্রদূত। কিংবদন্তী মাশরাফি বিন মোর্তজার এমন সাহসী উচ্চারনের অপেক্ষায় দেশের আপামর জনসাধারণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের হৃদপিন্ড তরুন প্রজন্ম। এই মুহুর্তে বহু ধারায় বিভক্ত দেশের জনগনকে একত্রিত করার মত ব্যাক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তা একমাত্র মাশরাফিরই আছে। বাংলাদেশের নড়াইল জেলায় মাশরাফির জন্ম হলেও তিনি সারা বাংলাদেশের এবং তিনিই বাংলাদেশ। তাঁর যদি নির্বাচন করতে ইচ্ছে হয় তবে নড়াইল কেন, বাংলাদেশের তিনশত আসনের যেকোন একটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা তিনি রাখেন। এমন নির্লোভ, নিরহংকারী, প্রতিশ্রুতিশীল,ত্যাগী,  দেশপ্রেমিক নেতা মাশরাফি ব্যাতীত দ্বিতীয়জন বাংলাদেশে এই মুহুর্তে বিরল।
লেখক, লন্ডন প্রবাসী সংবাদ কর্মী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত