প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্দোলনের হুঙ্কার দিচ্ছে বিএনপি

রবিন আকরাম : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বারবার আন্দোলনে যাওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছে বিএনপি। অন্দোলন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রতিনিয়ত বলছেন, খালদো জিয়াকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

নেতারা বলছেন, ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে শুরু করতে হবে। রমজানের মধ্যে সাংগঠনিক কর্মসূচি দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা, ইউনিয়নে ইফতারের আগে নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করা যেতে পারে। এরপর ইফতার মাহফিল। এতে করে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে।

তারা মনে করেন, রমজানে দলকে সংগঠিত করে ঈদের পরে আন্দোলন করা ঠিক হবে। আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনে নামতে হবে। তাহলে আন্দোলনের সফল হবে এবং এর ফলাফল নিজেদের ঘরে যাবে। কারণ তফসিল ঘোষণার পর সরকার চাইলেও আন্দোলন দমন করতে পারবে না।

সম্প্রতি এ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন কথা বলেছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। আমাদের ধীরে ধীরে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এ সরকারের টনক নড়ানো যাবে না। ঈদের পরে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই বিক্ষোভে ফেটে পড়ুন, উঠে দাঁড়ান, জাগ্রত হউন। আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন। গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করবো এবং আওয়ামী লীগের পতন ঘটাবো আমরা। নেতা-কর্মীদের জাগ্রত হওয়ার ও রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায় করেই আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।

বিএনপির আরেক নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনতার প্রতিরোধের মুখে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য করতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে বিএনপির আন্দোলনের হুঙ্কার নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলছেন, বিএনপির তর্জন-গর্জন বর্ষাকালের ব্যাঙ্গ ডাকার মতো।

তিনি বলেন, বিএনপির আহবানে মরা গাঙ্গে জোয়ার কখনোই আসেনি। ঈদের পরে আন্দোলন, শীতের পরে আন্দোলন, চাঁদ যেদিন বড়ো করে উঠবে সেদিন আন্দোলন, বর্ষাকালে নয় শীতকালে আন্দোলন ,তাদের এই আন্দোলন তারা কখনো করতে পারে নাই। সুতরাং বিএনপির তর্জন গর্জন হচ্ছে বর্ষাকালের ব্যাঙ ডাকার মতো।

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বর্তমানে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বেগম জিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত