প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুদ্ধ যেন নিরীহ নিরপরাধের বিরুদ্ধে না যায়

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি অস্ট্রেলিয়া থেকে: মাদকবিরোধী চলমান যুদ্ধ বিতর্কিত না হোক এটাই সবার চাওয়া। তবে কোনো বিষয়কেই অবিতর্কিত রাখেনি রাজনীতি। রাখবে বলেও মনে হয় না। গোড়াতেই বলি, দেশের সামগ্রিক চেহারা বা বদলে যাওয়া জীবন না বুঝলে সমস্যা ও বোঝা কঠিন। এখন এমন এক সময় মানুষ ধর্ম ও আচরণ গুলিয়ে একাকার। মুখে বড় বড় কথা বললেও খোদ রাজধানীতে আইনের নাকের ডগায় বিক্রি হচ্ছে যাবতীয় মাদক। মদ তো এখন জাতে ওঠার সিম্বল।
অফিসে আদালতেও চলে। দেশে গেলে কেন মদ নিয়ে যাই না সে আফসোসে আমার ওপর আগ্রহ হারিয়েছেন অনেকে। বলছি এখন যে যুদ্ধ তা নিয়ে। সামাজিক মিডিয়ার দিকে তাকালে বোঝা যাবে কোথাও জটিলতা আছে। বিশেষত টেকনাফে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, একজন মানুষের নামও মাদক একদিনে একাকার হতে পারে না। ইয়াবার মতো সাংঘাতিক একটা মাদকও এমপির নাম যদি এক হয়ে যায় তাহলে রাজনীতি কি করল এতদিন? সরকারি দলের সাংসদের নামেই যদি এই গলদ তো যুদ্ধ হবে কী করে?

বদি নামের এই মানুষটি কেন দলে আছেন? দল তার বিরুদ্ধে কি অ্যাকশন নিয়েছে বা নেবে কি না, এ নিয়ে কোন কথা নেই। আবার এও শুনলাম তিনি বলেছেন, জীবনে নাকি পানও মুখে দেননি। পান না খেলে পান জর্দার ব্যবসা করা যায় না? হোটেলে যারা পচা-বাসী খাবার দেয়, তারা কি নিজে তা খায়? ধোয়া তুলসীপাতা হওয়ার এসব কথা সন্দেহের।

এখন জানছি ওই এলাকার খাঁটি মানুষকে বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হয়েছে। কে তালিকা করছে, কে মারছে, কার কি এজেন্ডা পরিষ্কার না হলে যুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে। মূলত রাজনীতিই দায়ী। একতরফা রাজনীতি, তোষণ এককেন্দ্রিক সবকিছু এখন পরিবেশও বদলে দিয়েছে। ফলে এই যুদ্ধ আসলে কি ও কেন খোলসা করা দরকার।

আমরা চাই মাদকহীন সমাজ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন তারুণ্য শেষ হয়ে গেলে কিছুই থাকবে না। ফলে দল-মত-পথের বাইরে সবাই মিলে এই কাজ করতে হবে। ইচ্ছে হলে মারা ইচ্ছে হলে ক্রসফায়ার ইচ্ছেমতো টার্গেট সরকারকেই বিপদে ফেলবে।
মনে রাখা দরকার সমাজ যেমন মাদক চায় না, তেমনি অকারণ খুনও চায় না। মহতী কাজ বা ভালো কাজ ভালোভাবে না হলে পাপও খারাপ আরও শক্তিশালী হয়। এটা যেন ভুলে না যাই আমরা।
লেখক : বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ