প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফ্যাশনে পিছিয়ে নেই ছোটরাও

ডেস্ক রিপোর্ট : যাদের কাছে ঈদ মানেই নতুন জামা তাদের পোশাকে বৈচিত্র্য তো থাকবেই। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্য সময়ের সঙ্গে ঈদ বাজারের পার্থক্য হলো এখানে ছোটদের পোশাকে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি নামকরা সব মডেল ও ব্রান্ডের সর্বোচ্চ ফ্যাশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ছোট হলে কি হবে ফ্যাশনে বড়দের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই শিশু-কিশোররাও।
বড়দের পোশাকের ডিজাইন ও ফ্যাশনের সংখ্যা সীমিত থাকলেও ছোটদের শত শত রং আর ডিজাইনে কুল পাওয়া দায়। কোনোটির নিচের অংশে কাজ করা, কোনোটির বুকে আবার কোনোটির হাতা, গলা বা মাঝ বরাবর। রঙেও রয়েছে বাহারী চমক। অতি উজ্জ্বল থেকে হালকা কোনোটিরই অভাব নেই বাজারে। কিছু পোশাক আবার এক রংয়ের। অন্যগুলো ডিজাইন ছাড়াই সাদামাটা।

বড়দের বাজার এখনো পুরোদমে না জমলেও ছোটদের ঈদ বাজারের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রোজার প্রথম থেকেই ঈদ বাজারের শিশু কর্নারগুলোতে ভিড় জমে ছিল। এখন তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানদাররা বলছেন, শুধু ঈদ নয় অন্য সময়ও শিশুদের মার্কেটে ক্রেতা ঢল একটু বেশিই থাকে। আর ঈদের সময় তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষ করে ঈদ বাজারে শিশুদের জন্য বাজারে আসা নতুন সব ডিজাইন ও ফ্যাশনের বাড়তি কদর থাকে। আর এ কারণে কাটতিও হয় বেশি।
বিভিন্ন সিনেমা ও নাটকের পাশাপাশি নাম করা মডেলরা যেসব ফ্যাশনেবল পোশাক পরিধান করে তার সঙ্গে মিল রেখে এবার ঈদ বাজারে শিশু-কিশোরদেরও পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তুরস্কের সালতানাত যুগের কাহিনী নিয়ে নির্মিত সিরিয়ালে সুলতান-সুলতানাদের পোশাকের ডিজাইন, বিভিন্ন ভারতীয় সিনেমা ও সিরিয়াল এবং বাংলাদেশি নাটক নিসেমার নায়ক নায়িকাদের ব্যবহৃত পোশাকের ধরন মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক। কিছু পোশাক আবার আছে নামকরা কার্টুনের আলোচিত চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে। বাদ যায়নি ঐতিহ্যবাহী সব ফ্যাশনও।
ফ্যাশনেবল পোশাকের বাইরে অন্যান্য খুচরা অনুষঙ্গের কদরও বেশি শিশুদের মাঝে। এসবের মধ্যে রোদেলা চশমা, ব্রেসলেট, ঘড়ি, জুতা, চুলের ব্যান্ড, গাড়ি, বাঁশি, বন্দুক ইত্যাদি গুরম্নত্বপূর্ণ।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেট, গুলিস্ত্মানের বিভিন্ন মার্কেট, মগবাজার, পান্থপথ, ধানম-িসহ বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের ফ্যাশনেবল পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব মার্কেট ঘুরে নিউ মার্কেট ও বসুন্ধরা সিটিতে শিশুদের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এ দুটি মার্কেটের শিশু কর্নার লোকে লোকারণ্য। পিতা, মাতা, বড় ভাইবোন বা অন্য কোনো আত্মীয়ের হাত ধরে ঈদের বাজার করতে মার্কেটে এসেছে শিশুরা। কিন্তু শত শত ডিজাইন আর ফ্যাশনের মধ্যে কোনটি কিনবে তা নিয়ে রীতিমতো দ্বিধায় রয়েছে বাচ্চারা। আবার কিছু শিশুর অভিভাবক বলছেন, তাদের বাচ্চারা যেটি দেখছে সেটিই পছন্দ করছে। অর্থাৎ কোনটি বাদ দিয়ে কোনটি কিনবে তা নিয়ে ঘোর সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে।
রাজধানীর নিউ মার্কেটে পিতা মাতার সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছে রিমা ও রাতুল দুই ভাইবোন। রিমা প্রতিবেদককে জানায়, সে কোসেম সুলতানার পোশাক খুঁজছে। কয়েকটি পেয়েছেও। কিন্তু রং ভালো না লাগায় নিতে পারেনি। আরও খুঁজে দেখে মনের মতো একটি কোসেম সুলতানার পোশাক কিনবে সে।
উলেস্নখ্য, কোসেম সুলতানা দীপ্ত টিভিতে বর্তমানে চলমান তুর্কি সালতানাত আমলের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত সিরিয়াল সুলতান সুলেমানের উত্তরসুরি আহমদ সুলতানের প্রিয়তমা স্ত্রী। এবং সাম্রাজ্যে সুলতানের পরে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
তবে রাতুল বয়সে রিমার চেয়ে বেশ ছোট। দ্বিতীয় শ্রেণির এ শিক্ষার্থীর চাহিদাও তাই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। সে প্রতিবেদককে জানায়, তার পছন্দ ডরিমন বা মটু পাতলু কার্টুনের মতো পোশাক। তবে এর বাইরে ভিন্ন ধরনের ভালো পোশাক হলেও সে কিনবে।
রিমা-রাতুলের মা আফসানা খাতুন বলেন, ‘মেয়ে তার নিজের পছন্দ মতই কিনে থাকে। এবার কোসেম সুলতানার পোশাক কিনবে বলে বাসা থেকেই ঠিক করে এসেছে। কিন্তু রাতুল এখনো ছোট হওয়ায় তার বিশেষ কোন চয়েজ নেই। এ কারণে আমরাই ওর চয়েজ করে দেব। তবে ও একটু কার্টুন বেশি পছন্দ করে। এ কারণে কার্টনের সঙ্গে মিল রেখে কিনতে পারলে ছেলে বেশি খুশি হবে। কয়েকটি দোকান দেখেছি। আরও কয়েকটি ঘুরে কিনবো।’
তবে রাতুলের পিতা আব্দুল খালেক প্রতিবেদককে বলেন, ‘ছেলের পোশাকের উপর বিশেষ কোনো আকর্ষণ না থাকলেও অন্যান্য ছোটখাট জিনিস কেনায় ভীষণ আগ্রহ রয়েছে। রঙিন চশমা, বন্দুক ও গাড়ি প্রতি ঈদে ছেলের জন্য কিনতে হয়। এবার নানাভাবে বুঝিয়েছিলাম যে এগুলো কিনা লাগবে না। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সবশেষ ছেলের সঙ্গে সিদ্ধান্ত্ম হয়েছে ঈদের দিন তাকে একটি গাড়ি ও রঙিন চশমা কিনে দিতে হবে।’
তবে বড় বোনের সঙ্গে ঈদের বাজার করতে আসা সজিবের চাহিদা আবার ভিন্ন। সে জানায়, এবারের ঈদে সে তাহসান বা অপূর্ব যে ধরনের জিন্সের প্যান্ট পরে তেমন একটি জিন্সের প্যান্ট কিনতে চায়। এছাড়া সুন্দর জামা এবং চশমাও লাগবে তার।
সজিবের বোন চাঁদনী বলেন, ‘আমার আব্বু বিদেশে থাকেন। রোজা শুরম্নর আগেই ছোট ভাই সজিব আব্বুর কাছ থেকে ফোনে কি কি কিনতে হবে তার দাবি দাওয়া জানিয়ে রেখেছে। সে অনুসারে আব্বু আমাকে ফোনে জানিয়েছে ও যা যা চায় আমি যেন বাজারে গিয়ে তার সবই কিনে দেই। শুধুমাত্র ওর জন্যই আব্বু সৌদি আরব থেকে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। আমাদের জন্যও কিনব। তবে ও সবার ছোট হওয়ায় ওরটাই সবার আগে।’
দোকানদাররাও বলছেন, বড়দেরে চেয়ে ছোটদের জিনিস কিনতেই অভিভাবকরা বেশি ব্যস্ত্ম। কারণ বাচ্চারা কোন কিছু কিনতে একবার গো ধরলে তা কিনে দিতেই হয়। এ কারণে তাদেরকে নিয়ে পিতা মাতার বাড়তি আয়োজনের পাশাপাশি টেনশনও বেশি থাকে।
ইস্টার্ন পস্নাজার দ্বিতীয় তলায় শিশুদের একটি পোশাকের দোকান নুপুর গ্যালারি। এর একজন বিক্রেতা জুয়েল বলেন, ‘এবারের বাজারে বাচ্চাদের পোশাকের কদরই বেশি। ছোটদের জন্য নানা রকমের ফ্যাশনের কাপড় বাজারে এসেছে। দামও মোটামুটি সন্ত্মোষজনক। ফলে অনায়াসেই কিনতে পারছে সকলেই।’ সূত্র : যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত