প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনের বছরে খুশি রাখার কৌশল হিসেবে রাজনৈতিক ইচ্ছায় বেসরকারি শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। দুই দফায় গত মাসে চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। আরো এক ডজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন করে স্কুল ও কলেজ অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আরো প্রায় ২ শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এসব অনুমোদনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রাধান্য। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য চলছে। মুনাফা লাভের আশায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এতে করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দেশে নতুন করে কোনো স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব অনুমোদন বন্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে নতুন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের এসএসসিতে ১২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৬টি স্কুল ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৯৬টি মাদরাসা রয়েছে। দেখা গেছে, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। মাগুরার রিজিয়া রুবিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার ২০ ছাত্রী দাখিল পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে। এমপিওভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও তিন কর্মচারী রয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি, অতিরিক্ত শ্রেণি, নতুন বিষয়-বিভাগ খোলা সংক্রান্ত কমিটির সভা হয়। কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) জাবেদ আহমেদের সভাপতিত্বে ওই সভায় ৪৯৬টি স্কুল ও কলেজ পাঠদানের অনুমতি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বিগত দিনে একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি না করায় আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষকরা। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। তবে থেমে থাকেননি মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী নেতা ও আমলারা। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অব্যাহত চাপ দিতে থাকেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, নতুন অনুমোদন দিতে ২শ’ স্কুল ও কলেজের নামের তালিকা করা হয়েছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হবে।
১৯৯৭ সালের বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও স্বীকৃতি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি আট হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি নি¤œ মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ-অষ্টম), ১০ হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল বা মাদরাসা) এবং ৭৫ হাজার জনসংখ্যার জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের (কলেজ-আলিম মাদরাসা) প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়া যাবে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্বের শর্তে বলা হয়েছে, নি¤œ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় এক কিলোমিটার ও মফস্বল এলাকায় ছয় কিলোমিটার। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে মফস্বল এলাকায় চার কিলোমিটার আর উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় দুই কিলোমিটার আর মফস্বল এলাকায় ছয় কিলোমিটার শর্ত রয়েছে। পুরনো এই নীতিমালার কারণে একদিকে প্রতিষ্ঠানে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক থাকে না বিধায় শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার বাস্তব প্রয়োজনের কারণে প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের দৌড়ে রয়েছে। যে কোনো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদন দেয়া হবে। গত ৯ বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ৪৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন মোট ১০১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে ৯৫টিতে। আওয়ামী লীগের সবশেষ দুই মেয়াদে ৪৭টির মধ্যে ২০১২ সালে ১৬টি, ২০১৩ সালে ১০টি, ২০১৪ সালে ২টি, ২০১৫ সালে ৩টি, ২০১৬ সালে ৬টি, ২০১৭ সালে ৫টি এবং ২০১৮ সালে এ পর্যন্ত ৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এমপি মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এমপি নজরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম, এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী, সিলেটের গোলাপগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আহমেদ চৌধুরী, সরকারদলীয় এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সাবেক সদস্য দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদার, সাবেক আইনমন্ত্রী এবং এমপি আবদুল মতিন খসরু, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, বিএম শামসুল হক, কাজী রফিকুল আলম, ড. এম জুবায়েদুর রহমানসহ আরো কয়েক নেতা ও ব্যবসায়ী বিভিন্ন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছেন। এ ছাড়া পুরনো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারসহ কয়েকজন যুক্ত হয়েছেন। সূত্র : মানবকন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত