প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাই সোসাইটির ভোক্তারাও আস্থা সংকটে

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র রমজান মাসে কম দামেই ভোক্তাদের নিকট পণ্য বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমাদের দেশে মুখে বললেও অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা রোজার মাসেও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পাড়া গ্রামের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা তো বটে, খোদ হাই সোসাইটি বা অভিজাত ভোক্তারা যে আগোরা, স্বপ্ন, মিনাবাজারসহ বিভিন্ন সুপারশপে একই ছাদের নিচে নিত্য সব বাজার করেন তাতেও দেখা যাচ্ছে ভেজাল। সুযোগ পেলে তারাও ঠকাচ্ছে ভোক্তাদের। শুধু তাই নয়, রাজধানীর চকবাজারে অভিজাত রস মিষ্টি, আলাউদ্দিন সুইটস ও আনন্দ কনফেকশনারিও ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে দ্বিধাবোধ করছে না। এটা কোনো সাধারণ মানুষের অভিযোগ নয়, খোদ সরকারি কর্মকর্তাদের ভেজালবিরোধী বাজার অভিযানে এসব ধরা পড়ছে। তাদের মুখোশ উšে§াচন হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে হাই সোসাইটি ভোক্তাদের আস্থা কমে যাচ্ছে ওইসব নামিদামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সুপারশপের প্রতি। তাদের প্রশ্ন আমরা যাব কোন বাজারে, খাব কাদের খাবার?
এ ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. শামসুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি একজন ভোক্তা হিসেবে বলব, বড় বড় সুপারশপের অতি মুনাফা লাভের কারণেই তাদের জরিমানা গুনতে হচ্ছে। তাদের নীতি নৈতিকতার অভাবেই এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা ভোক্তাদের মানসম্মত পণ্য দিচ্ছে না বলেই তাদের জরিমানা দিতে হচ্ছে। এতে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। তাই ভালো পণ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত আরো বাজার মনিটরিং করা ও তদারকি বাড়ানো। যাতে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়। সরকারের উচিত আরো বেশি করে ভেজালকারীদের জেল জরিমানা করা। যাতে ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়।
সার্বিক ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর মানবকণ্ঠকে বলেন, যাদের ভেজাল করা অভ্যাস তারা সুযোগ পেলে করবেই। তাই তো বিভিন্ন সময়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধরাও পড়ছে নামিদামি আগোরা. মিনাবাজার ও স্বপ্নের মতো সুপারশপ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থেই আগের চেয়ে রমজানে অনেক বেশি বাজার অভিযান পরিচালনা ও আওতা বাড়ানো হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাই জরিমানার পরিমাণও বেশি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সুপারশপের পলিসি মেকারদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিটিং, সভা সেমিনার করা হচ্ছে। তার পরও জরিমানার পরিমাণ বাড়ছে। এতে তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। কারণ দেখা যায়, একই প্রতিষ্ঠানের একই আউটলেটকে কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শনিবার শুধু বসুন্ধরা সিটিতে অভিযান পরিচালনায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এর ফলে তাদের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা কমে যাচ্ছে।
মতামত জানতে বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসওএ) প্রেসিডেস্ট ও আগোরার কর্ণধার নিয়াজ রহিমের সঙ্গে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। কারণ রিং হলে কখনো কেটে দেন তিনি। পরিচয় দিয়ে ম্যাসেজ দেয়া হলেও উত্তর আসে ‘ইয়োর নম্বর ইজ নট রিকগনাইজড’। তবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি নিজেও একজন ভোক্তা হিসেবে ভালো পণ্য পেতে চাই। পচা মাংস খেতে চাই না। তাই ভোক্তাদের স্বার্থে ভেজালবিরোধী অভিযানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কিছু অযাচিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। যেমন এক্সপাইর ডেট পণ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি। এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মিটিং হয়েছে। এফবিসিসিআইর মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে বসতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় বড় সুপারশপে ভেজালবিরোধী অভিযান চললেও ভোক্তাদের আস্থা কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ কোনো সুপারশপে কাস্টমার কমেনি। স্বপ্ন, আগোরা, মিনাবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা বিনিযোগ করা হয়েছে। দুই একটা পণ্যের ব্যাপারে অভিযোগ থাকতে পারে। তাই ওইসব পণ্য সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা দরকার বলে তিনি জানান।
অন্যান্য বছরের মতো এবারো রোজার আগে বড় বড় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যবসা সংগঠন নেতাদের সঙ্গে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মিটিং করেন। সেখানে তিনি নিত্যপণ্যের সরবরাহ চাহিদার তুলায় বেশি আছে বলে জানান। আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে লাভ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কে শুনে কার কথা। কারণ রোজার পরে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক বিএসটিআই এবং ভেজালবিরোধী বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কয়েক দিনের ভেজালবিরোধী প্রতিবেদনে দেখা যায় বড় বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করতে দ্বিধাবোধ করছে না। তারা বিভিন্ন পন্থায় ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাই জরিমানাও গুনতে হচ্ছে।
ভোক্তা অধিদফতরের সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীর কামরাঙ্গীরচর ও পিলখানা এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরির অপরাধে ২২ মে বাধ ফুড প্রোডাক্টস ও মধুমতি ফুড প্রোডাক্টস নামক সেমাই কারখানাকে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অপরাধে নিউ বিক্রমপুর, মেডিসিন হাউজ ও বিক্রমপুর-১ ও বিক্রমপুর-২ কে জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক শাহনাজ সুলতানা এবং মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এসব অভিযান পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করেন। এভাবে ওইদিন দেশব্যাপী ২৪টি জেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি, পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ওজনে কারচুপি, ধার্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি, পরিমাপে কারচুপি, খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, সেবার মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, পণ্যের মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। শুধু তাই নয়, বিএসটিআই ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও ২২ মার্চে ঢাকা মহানগরীর সেগুনবাগিচায় আফতাব সেন্টারে মোবাইল কোর্টে আফতাব মিল্ক এন্ড মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টেও অভিযানে অনুমোদনবিহীনভাবে পাস্তুরিত তরল দুধের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক পাস্তুরিত তরল দুধ বিক্রি করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে জরিমানা ও ০১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ওইদিনই ১৮১/৮২, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অপর একটি ভেজালবিরোধী অভিযানে হোসেন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লি. কোনো প্রকার মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। মহানগরীর ভাটারা এলাকায় ক্রিস্টাল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ পানির জারে মানসম্মত লেবেল ব্যবহার না করেই ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করায় জরিমানা করা হয়। অপর এক অভিযানে পশ্চিম ভাটারায় প্রভাতী ফুড কেমিক্যাল দিয়ে মুড়ি উৎপাদন করায় জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া গুলশান-২ এলাকায় প্রিমিয়ার সুইটস অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য সংরক্ষণ এবং ধানসিঁড়ি রেস্তেরাঁ ও জিপি রেস্টুরেন্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ করায় ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানা ও দণ্ড প্রদান করা হয়।
গত ২৩ মার্চে ধানমণ্ডি এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও যথাযথভাবে সেবা প্রদান না করার অপরাধে কড়াই গোস্ত, পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে মিনাবাজার ও নন্দন, ধার্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে মাংস বিক্রির অপরাধে বেঙ্গল মিট, যথাযথভাবে সেবা প্রদান না করার অপরাধে আগোরাকেও জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ভেজালবিরোধী অভিযানে ওইসব নামিদামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন। রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে রস মিষ্টি, আলা উদ্দিন সুইটস ও আনন্দ কনফেকশনারিকে জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে অরিজিনাল বোম্বে সুইটস অ্যান্ড চানাচুরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ ছাড়া গত রোববার, ২৭ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরির অপরাধে নাসির ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, শান্ত ফুড প্রোডাক্টস, মোহাম্মদ আলী সেমাই কারখানা ও হাশেম ফুড প্রোডাক্টসকে জরিমানা করা হয়।
পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে বোম্বে কনফেকশনারি ও ইয়ামিন সুইটস এন্ড বেকারিকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া দেশব্যাপী ২৩টি জেলায় বিভিন্ন অপরাধে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একই দিনে বিএসটিআইর ভেজালবিরোধী অভিযানে ১০ লাখ জরিমানা করা হয়। ১৫/১, নিউ বেইলী রোড, সিদ্ধেশ্বরী, রমনার নবাবী ভোজকে এ জরিমানা করা হয়। বিএসটিআইর অনুমোদন ব্যতীত ফার্মান্টেড মিল্ক উৎপাদন ও বিক্রি করায় এ জরিমানা। অভিযানকালে রমনার পেয়ারাবাগের আল্লার দান বেকারিকেও বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়া পাউরুটি, বিস্কুট ও কেক উৎপাদনের বিষয় উদ্ঘাটিত হলে জরিমানা করা হয়। এ সময় বুমার্স এবং ঝইঅজজঙ প্রতিষ্ঠানকেও পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে জরিমানা করা হয়।
আগোরাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা : রাজধানীর মিরপুর সনি সিনেমা হলের পাশের আগোরা সুপার শপে ভালো মাছের সঙ্গেই রাখা হয়েছে পচা-গলা মাছও। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ দু’জনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর সনি সিনেমা হলের পাশের আগোরা সুপার শপে বিএসটিআই, ডিএমপির মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়। অভিযানে সুপার শপটিতে পচা শুকনো পটল, পচা-গলা রুই মাছ ও রূপচাঁদা মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, আগোরায় ভালো মানের পণ্য কেনার আস্থা নিয়ে আসেন ক্রেতা সাধারণরা। কিন্তু এখানে এসে দেখা গেল ভালো মাছের সঙ্গে পচা-গলা মাছও বিক্রি করা হচ্ছে। ১০ কেজি রূপচাঁদা ও রুই মাছ জব্দ করা হয়েছে যা বিক্রি ও খাওয়ার অনুপযোগী।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দায় স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫, ৫১ ও ৫৩ ধারায় মিরপুর আগোরাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ফ্লোর ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্যাশিয়ার কাউসারকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া একই এলাকায় বার্গার কিং নামের এক ফাস্টফুডের দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়। সূত্র : মানবকন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত