প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমস্যা ভুঁইফোড় ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকে

ডেস্ক রিপোর্ট : সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অলিগলিতে গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদফতরে নিবন্ধন না করেই চালাচ্ছে সেবার নামে ব্যবসা। তাই এসব অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে অনলাইন নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জাকিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনসূত্রে জানা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া অটোমেশন করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দেশের যে কোনো জায়গায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে চাহিদামাফিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। এরপর প্রতি জেলার সিভিল সার্জন ওই জেলা থেকে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে মতামত পাঠিয়ে দেবেন স্বাস্থ্য অধিদফতরে। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও মেয়াদ প্রদান করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর প্রতিটি জেলা অনুযায়ী সারা দেশের বেসরকারি ক্লিনিক, নার্সিং হোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্লাড ব্যাংকের তালিকা দিয়ে দেওয়া হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে। গত ১৪ মে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে এ অটোমেশন প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক বছর ধরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয়েছে এ প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতি চালু করতে অ্যাপস তৈরি থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর অ্যানালগ পদ্ধতিতে এসব বেসরকারি হাসপাতালের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে যখন অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন পড়ে তখন আমাদের কাছে তালিকা চেয়ে পাঠাতে হয়। আমরা তালিকা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোয় অভিযান চালাতে অনেক সময়ের অপচয় হতো। কিন্তু এখন আর সে উপায় থাকছে না। দেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মানুষ জানতে পারবে সে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে কিনা। এতে মানুষের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা।

অটোমেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি সেবা খাতে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। অটোমেশনের আওতায় এলে সরকার নির্ধারিত দামে চিকিৎসা ও প্যাথলজি ফি নিতে হবে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে।বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত