প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামদানী শিল্পনগরীতে অন্য কারও নামে প্লট নয় : শিল্পমন্ত্রী

আদম মালেক : শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু  জামদানি শিল্পনগরীতে জামদানি তাঁতশিল্পী ছাড়া অন্য কারো নামে কোনো প্লট বরাদ্দ থাকলে তা দ্রুত বাতিল করে প্রকৃত তাঁতীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন
এক্ষেত্রে কোনো ধরর শৈথিল্য প্রদর্শন করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর যৌথভাবে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী-২০১৮ এর উদ্বোধনকালে এ নির্দেশ দেন।
বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা. ইফতিখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী  এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক বক্তব্য রাখেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহীত নীতির ফলে ঝিমিয়ে পড়া জামদানি শিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এর ধারাবাহিকতায় জামদানি শিল্প খাত ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমানে জামদানি শিল্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের জামদানি শিল্প এখন ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। দেশের জামদানি শিল্পকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে জামদানিকে বাংলাদেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দেশীয়  ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে জামদানির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ জামদানির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়াবে। এ শিল্পে পণ্য বৈচিত্রকরণের লক্ষ্যে বিসিক জামদানি তাঁতীদের মাঝে নকশা বিতরণ, প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা, বিপণন অবকাঠামো তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিসিক পরিচালিত গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ঐতিহ্যবাহী মসলিন, জামদানি, বেনারশি, সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল শাড়িসহ বিভিন্ন বস্ত্র এবং পাট শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মা নদীর ওপাড়ে প্রায় ২ হাজার কোটি ব্যয়ে নতুন তাঁতপল্লী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট, ঋণ সুবিধা, আবাসন, শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধাদি নিশ্চিত করা হবে। জামদানি শিল্পের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিসিকের পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ও সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত