প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্যোগ মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ জাতিসংঘের

রাকিব খান : বাংলাদশে আসন্ন বর্ষায় ভূমিধসসহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা করতে রোহিঙ্গাদের জরুরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে আসন্ন বর্ষায় বন্যা, ভূমিধস, ঝরবৃষ্টি ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের মতো সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে তুলতে জরুরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি অনুমান করছে যে দুই লাখের মতো শরণার্থী এই দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য তাদের থেকেই সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতেও সচেতনতা গড়ে তুলতে তারা কাজ করবেন। কিন্তু কেন এমন একটি কর্মসূচির প্রয়োজন হলো, এ ব্যাপারে বিবিসির সহকর্মী পুলকগুপ্ত কথা বলেছেন, ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা জোসেফ ত্রিপুরার সঙ্গে।

জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই বলা হচ্ছে আসছে বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাক্যাম্পে ভারি বৃষ্টি কিংবা সাইক্লোন জাতীয় কোনো কিছু আসে তাহলে ক্ষতির পরিমাণটা অনেক বেশি হবে। আর যদি এরকম কিছু হয় তাহলে আমাদের ধারণা ২ লাখের মতো রোহিঙ্গা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এই আসন্ন দুর্যোগটাকে মোকাবেলা করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ হাতে নিয়েছি। যেমন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে। পাশাপাশি আমাদের সুরক্ষার বিভিন্ন প্রশিক্ষণও চলছে।

রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকেই লোকজন নেয়া হচ্ছে বা তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে পুলক গুপ্তের এমন প্রশ্নের জবাবে জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, যারা এই প্রশিক্ষণটা নিচ্ছে তারা সবাই সেচ্ছাসেবক। আমরা শতশত সেচ্ছাসেবককে এ কাজের আওতায় অর্ন্তভূক্ত করছি। আমরা সরকারের সাথে এবং আমাদের যেই সহযোগি সংস্থাগুলো আছে, পাশাপাশি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে আমরা যোগাযোগ করছি তাদের দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের মাধ্যমে এই সেচ্ছাসেবকদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

কোন ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, এখন মূলত আমাদের সবথেকে বেশি যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে আসন্ন বর্ষা মৌসুম। এই বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড়ের হলে শরণার্থীর বিশাল একটা অংশ বন্যা কবলিত হবে এবং ভূমিধসের শিকার হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের আবির্ভাব ঘটতে পারে। তাই আমরা এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখেই মূলত এই প্রশিক্ষণগুলো দিচ্ছি।

শুরু থেকে যখন এই শরণার্থী শিবিরগুলো তৈরি হয়েছিলো এবং তারপর থেকেই ইউএনএইচসিআর-এর উদ্যোগে ভূমিধস মোকাবেলা করতে পারে এরকম অপেক্ষাকৃত ও উন্নত বা নিরাপদ বাসস্থান তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সেখানে কয়টি বাসস্থান তৈরি হয়েছিল বা তার বাইরে এখনো বিপজ্জনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কত শরণার্থী রয়েছেন পুলক গুপ্তের এমন প্রশ্নের জবাবে জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, যেসব শরণার্থী অপেক্ষাকৃত অনিরাপদস্থানে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছেন আমরা সেখান থেকে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা ২০ হাজারেরও বেশি শরণার্থীকে নিরাপদস্থানে সরিয়েছি। আমি আগেও বলেছি ২ লাখের মতো শরণার্থী অধিক ঝুঁকিতে আছে বন্যা এবং ভূমিধসে। সুতরাং আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব শরণার্থীদেরকে নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, এখানে ইউএনএইচসিআর –এর যেসব কার্যক্রমগুলো চলছে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য এর বাইরেও আরও অনেক সংস্থা কাজ করছেন এই দুর্যোগটাকে মোকাবেলা করার জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ