প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমবঙ্গে শেখ হাসিনার বিশেষ সফর, বিএনপির বিশেষ অপপ্রচার

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী ;  এরইমধ্যে বাংলাদেশর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অতি সাধারণ মানুষও মিডিয়ার কল্যাণে জেনে গেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন দুদিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন এবং আসানসোল কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন, যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুটো বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, তথাপিও এটিকে কোনো অবস্থাতেই গতানুগতিক সরকারি রাষ্ট্রীয় সফর বলা যাবে না। রাষ্ট্রীয় সফরের ধরন এবং প্রস্তুতি একেবারেই আলাদা। দুই দেশের শীর্ষ যেকোনো বৈঠকের আগে এজেন্ডা বা আলোচনা সূচি নিয়ে নানা ধরনের আলাপ-আলোচনা থাকে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলেই রাষ্ট্্রীয় সফরের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়, সেভাবেই সফর অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষও বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছে, বুঝে আসছে। সে ধরনের রাষ্ট্রীয় সফরের আগে আমাদের মিডিয়াগুলোতে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যু কীভাবে মীমাংসা করা সম্ভব, দুই দেশের মধ্যে তার অবস্থান কেমন, দৃষ্টিভঙ্গির নানা বিচার-বিশ্লেষণ করেও থাকে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়, রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া ও প্রচার অনেকটাই দুর্বল। কিন্তু ভয়ঙ্কররকম শক্তিশালী হচ্ছে যারা মাদক, চোরাচালানি, কারবারি ও পৃষ্ঠপোষক-তারাই। এরা প্রশাসনের ভিতরে আগে থেকেই রয়েছে, তাদের কালো হাত পর্দার আড়ালে থাকলেও ‘বিত্তের কুমির’ অনেকেই মাদক চোরাচালানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে… আছে। এতদিন যারা মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছে তারা যে বাস্তবে অনেকে প্রকৃত দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে সচেষ্ট ছিলেনÑ সেই সত্যতা স্বীকার করতে হবে। এদেরকেও খোঁজে বের করা দরকার এবং এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের শৈথল্য প্রদর্শন এখন আর করা উচিত হবে না। মাদককে ব্যবসার চাইতে চোরাচালানের বিষয় হিসেবে দেখতে হবে। ব্যবসায় আইনগত ভিত্তি থাকে। কিন্তু চোরাচালান আদতেই বেআইনি কারবার অপরাধ। এসব চোরা চালানের মূল হোতা, সুবিধাভোগী, পৃষ্ঠপোষক যারাই ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দীর্ঘদিন থেকে তথ্য জমা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই তালিকায় আনতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, পুলিশ প্রশাসনের ভেতর যারা এদের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে চলতে দিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। মাদক সম্্রাট বলে কথিত ব্যক্তিরা গোড়াতে সম্্রাট ছিল না, বড় ধরনের চোরাচালান সফলভাবে দেশের ভিতর ঢুকিয়েই তারা সম্্রাট উপাধি অর্জন করেছে। এরা রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ইত্যাদি অবস্থানে উঠে আসার পেছনে রয়েছে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থবিত্ত। অথচ তাদের এমন বিত্তবৈভবের ফলে শুধু সমাজের যুবসমাজই নেশাগ্রস্ত হচ্ছে না, দেশের প্রশাসন নষ্ট হয়েছে, রাজনীতি আদর্শহীন হয়েছে, সমাজ ব্যবস্থার অভ্যন্তরে মেধার বীভৎস অপচয় হচ্ছে, রাষ্ট্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়কে বিবেচনায় রেখে মাদকবিরোধী যুদ্ধাভিযানকে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না, পুলিশের বিশেষ করে কোনো মহল যাতে নিরীহ মানুষকে গেপ্তার করে মানুষের মনকে বিষিয়ে না তুলতে পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তিই বেশ দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং পড়াশোনা জানা, তবে মাথামোটা হর্তাকর্তারও অভাব নেই, ফয়দালোটা লোকেরও অভাব নেই। প্রতিটি পদক্ষেপই যেন নিজেদের কঠোর নজরদারিত্বের মধ্যে থাকেÑ সেটি বাহিনী সমূহের নেতৃত্বকেই মনে রাখতে হবে। আমরা এই অভিযান শেষ পর্যন্ত সফলই দেখতে চাই, কোনোভাবেই ব্যর্থ ও সমালোচিত হওয়া চলবে না।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাসবিভাগ, বাউবি /  আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত