প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত:মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে তার সতীর্থদের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়ায় সব দলই ভাল। এখানে আর্জেন্টিনা সেরা কিংবা ফেবারিট হিসেবে যাচ্ছে না।’

আর্জেন্টাইন চ্যানেল থার্টিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে মেসি তার একমাত্র পছন্দ। তিনি বলেন, ‘সবার জানতে হবে বলেছেন, আমরা রাশিয়া ফেবারিট হিসেবে যাচ্ছি না।কিন্তু আমাদের দলে দারুণ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত। আর্জেন্টিনারও বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আছে, আমার সেই বিশ্বাস আছে। আমাদের খেলোয়াড়রা বেশ অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান। তবে আমরা একথা বলতে চাই না যে আমরাই সেরা। কারণ এটা ঠিক নয়। এখানে বেশ কয়েকটি দলই ভাল। বিশেষ করে ব্রাজিল, স্পেন ও জার্মানীর নাম আলাদা করে বলতেই হয়।’

রাশিয়ায় গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া, আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। মেসি গ্রুপটিকে জটিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ করে নাইজেরিয়া আর্জেন্টিনার জন্য সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। নভেম্বরে ক্রাসনোডাওে প্রীতি ম্যাচে মেসি খেলতে পারেনি, ম্যাচটিতে নাইজেরিয়া ৪-২ গোলে জয়ী হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার হাইতির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা প্রথম অনুশীলন ম্যাচে মাঠে নামবে। এরপর ৯ জুন জেরুজালেমে ইসরাইলের মুখোমুখি হবে।
সেরা স্কোরার মেসি
লা ম্যাসিয়ার যুব ক্যারিয়ারেই ভবিষ্যতের বিখ্যাত ফুটবল তারকা হিসেবে অবির্ভাব সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেন লিওনেল মেসি। তরুণ আর্জেন্টাইনের বল পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গণমাধ্যমের কর্মীদের লেখনীতেও স্পষ্ট হয় স্পেনের শীর্ষস্থানীয় ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় অতি মানবীয় এক প্রতিভা। তবে প্রতিপক্ষের জালে বল প্রবেশ করানোর রেসে লিওনেল মেসির অব্যাহত সাফল্যের ব্যাপারে কেউই আঁচ করতে পারেননি। বার্সেলোনার জার্সিতে গোল আদায়ে সবার প্রত্যাশা বহু আগেই টপকে গেছেন আর্জেন্টাইন সেনসেশন। উপরন্তু প্রতিটি নতুন মৌসুমেই উন্নতি ঘটছে তার দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করার সামর্থ্যরেও।

২০০৫ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করেন লিটল জিনিয়াস মেসি। একে একে ১৪টি মওসুম অতিক্রমের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন শৈশবেই জন্মভূমি ছেড়ে কাতালুনিয়ায় পাড়ি জমানো আর্জেন্টাইন ফুটবলার। বার্সেলোনার নম্বর টেন জার্সি গ্রহণের পরই মেসির মাঠের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একটির পর একটি মৌসুমের অব্যাহত পারফরম্যান্সে তার ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সমসাময়িককালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভয়ঙ্কর গোল স্কোরার হিসেবে।

কাতালুনিয়ার জায়ান্টদের জার্সিতে সিনিয়র ক্যারিয়ারের মেসির প্রথম গোল সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগকারীদের অনেকেই নিশ্চিত করেন স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্তি। কিন্তু গোল করার ক্ষেত্রে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের অসীম সামর্থ্যরে ব্যাপারে বিশ্লেষকেরা অন্ধকারেই থেকে যান। এক্ষেত্রে কোনো কাজে দেয়নি দিনের পর দিনের ক্লাবের এ দলের জার্সিতে মেসির পারফরম্যান্স স্টেডিয়ামে বসে উপভোগের অভিজ্ঞতাও।
স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলের গোলের ইতিহাস ওলট-পালট মেসির বল পায়ের জাদুতে। বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গোল স্কোরার আর্জেন্টাইন সেনসেশন। লা লিগায় ৩৮৩ গোলে পৌছে গেছেন লাতিন সুপারস্টার। বেশ আগেই টপকে গেছেন টেলমো জারা ও অ্যালফ্রেডো ডি স্টেফানোর মতো কিংবদন্তিকে। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের বাইরে ও ভেতরের প্রতিটি ইঞ্চিতে পা রেখে গোল করার অভাবনীয় কৃতিত্ব গড়েছেন মেসি। তবে তার ‘বাঁ পায়ের’ অতি-মানবীয় সামর্থ্যরে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছিল সিনিয়র দলের প্রথম গোলেই। বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের পরবর্তী প্রত্যেক ১০ গোলের আটটিই এসেছে আর্জেন্টাইন তারকার বাঁ পায়ের কারিশম্যাটিক ফুটবলে। মাঠের ফুটবলে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর তার ডান পা। এখন পর্যন্ত ডান পায়ে ৫৭ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

শারীরিক গঠনে খর্বকায় মেসির জন্য হেডের সাহায্যে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোর কাজটি অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তবে সময়ের আবর্ততে এক্ষেত্রেও তিনি উন্নতির নজির রেখেছেন। ২০০৮ সালে হেডে প্রথম গোল আদায় করেন বার্সেলোনা সুপারস্টার। ওই একই বছরে স্পেনের দলটির নম্বর টেন জার্সির মালিকানা গ্রহণের পরই প্রস্ফুটিত হয়েছে মেসির সিনিয়র ক্যারিয়ার। ২০১২ সালে লা লিগার এক মওসুমে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫০ গোল করার বিরল কৃতিত্ব দখলে নেন আর্জেন্টাইন সেনসেশন।

ব্রাজিলীয় সেনসেশন রোনালদিনহোর প্রস্থানে ফ্রি-কিক থেকে বার্সেলোনাকে অবিশ্বাস্য গোল উপহার দেয়ার সূচনা মেসির। এ বিভাগে তার উন্নতিও অটুট রয়েছে। ২০১১-১২ মৌসুমের প্রথমবারের মতো ফ্রি-কিক থেকে তার গোলসংখ্যা উন্নীত হয় দুইয়ে। চলমান লা লিগার আসরে ইতোমধ্যেই তিনি ফ্রি-কিক থেকে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৬ গোল করেছেন।

আজ ২০১৭-১৮ মৌসুমের শেষ খেলায়ও মেসি গোল করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। সবার আগ্রহের মূলে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পিচিপি অ্যাওয়ার্ড জয়ের অবিশ্বাস্য সাফল্যের বিস্ময়। ইউরোপের গোল্ডেন সু’র পদকেও উদ্ভাসিত মেসির হাতের স্পর্শ। নয়াদিগন্ত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত