প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদক নির্মূল অভিযান ও বাস্তবতা

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান:  সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক হতাহতও হচ্ছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা আছে। রয়েছে বিতর্কও। কেন এত মানুষ মারা যাচ্ছে? বড় বড় মাদক কারবারীদের না ধরে কেন ক্ষুদ্র বা মাঝারিদের বিষয়ে এত মনোযোগ। বড়দের না ধরলে সমস্যার সুরাহা হবে কীভাবে, এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কউে।

আমার মনে হয় প্রশ্ন তোলার চেয়ে সংকট নিরসনেই আমাদের বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। কীভাবে মাদকের ছোবল থেকে মানুষ তথা সমাজকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে ভাবা দরকার। আমরা জানি, মাদক একটা নেশা। এই নেশা থেকে সমাজ বা মাদকাসক্তদের থেকে দূরে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের মাদকের নেশা থেকে সরিয়ে আনতে কী করতে হবে আমাদের? অনেককিছু করার আছে। তবে সবার আগে যা করতে হবে তা হলো মাদকের পরিবর্তে মানুষ তথা যুবসমাজকে অন্যকোনো নেশা ধরিয়ে দিতে হবে। ইতিবাচক নেশা। যদি এমনটি করা না যায় তাহলে এই মরণনেশা তারা ছাড়বে না। তাদের হাতে আমরা বই তুলে দিতে পারি। খেলাধুলায় উৎসাহ করার ব্যবস্থা করতে হবে। বইপড়া বা খেলাধুলাসহ এ ধরনের নেশা তাদেরকে ধরিয়ে দিতে হবে। এ ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বা ব্যক্তিপর্যায় থেকেও করা যেতে পারে। তা না করে যদি মানুষকে শুধু গুলি করে মারা হয় তাতে নেশা বন্ধ হবে না। নেশার জন্য মানুষ ছুটবে, সে জন্য ভালো নেশা তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।
কেন মানুষ মাদক নেয়? আমরা মাদক নেওয়ার সময় পাই না। ওরা নেয় কারণ ওদের কোনো কাজ নেই। লাখ লাখ বেকারের উপস্থিতি থাকলে মাদকাসক্ত বাড়ার সম্ভবনা বেশি থাকবে। কারণ তাদের কাজ নেই, তদের কর্মসংস্থান করতে হবে। কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে মাদক নিমূল হবে না। হতাশাগ্রস্ত লোক গাজা, আফিম যখন যেটা পায় সেটা খায়। সেজন্য দেশে প্রচুর কর্মসংস্থান করতে হবে। আর যে বিষয়টা বেশি গুরত্বপূর্ণ পরিবারিকভাবে এই জিনিসগুলো যাতে ঘটে সে দিকে খেয়াল করতে হবে।         পরিচিতি : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়/ আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত